Home » আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মূর্ত প্রতীক আল্লামা তৈয়ীবুর রহমান।

আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মূর্ত প্রতীক আল্লামা তৈয়ীবুর রহমান।

আমীরে শরীয়ত আল্লামা তৈয়ীবুর রহমান বড়ভূইয়া রাহঃ ছিলেন গগনচুম্বী জনপ্রিয়তা মূর্ত প্রতীক। জনপ্রিয়তা অর্জনে চাই যেসব গুণাগুণ,সেসব গুণের আধার ছিলেন তিনি। তাঁর ছিল মেধা,প্রতিভা,বিচক্ষণতা ও মহানুভবতা। ছিল ধৈর্য্য, ঔদার্য, সহনশীলতা ও দূরদর্শিতা। ছিল জ্ঞান,প্রজ্ঞা,বিনয় ও দয়া। ছিল নিষ্ঠা,আন্তরিকতা,প্রেম- ভালোবাসা। ছিল মেশকময় চরিত্র ও নুরানী চেহারা। এক কথায় তিনি ছিলেন অসাধারণ গুণাবলীর এক অপূর্ব সমষ্টি। তাঁর পূত-পবিত্র চরিত্র ও দ্যোতিত ব্যক্তিত্ব জনসাধারণকে আকর্ষণ করতো। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার তিনি ছিলেন প্রিয়পাত্র। আপনজন। সবাই তাঁকে সমীহ করতো। শ্রদ্ধাভরা চোখে দেখতো। সবাই তাঁর কাছে পেত আন্তরিকতা,স্নেহ-মমতা ও প্রেম-ভালোবাসা। তাঁর সান্নিধ্যে পূরণ হত অনেকের আশা প্রত্যাশা। তিনি সবার মাথায় বুলিয়ে দিতেন সান্ত্বনার হাত। মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা করতো। ভালোবাসতো। তিনি ছিলেন লক্ষ লক্ষ মুরিদের প্রাণপ্রিয় মুর্শিদ। তাঁর চোখে মুখে নুরের আভা উদ্ভাসিত হতো। অনন্য এক নুরানী সুন্দর্যে তাঁর মুখাবয়ব থাকতো সদা আলোকিত।

তাঁর আধ্যাত্মিক জ্ঞানের দীপ্তি তাওহীদি জনতাকে চুম্বকের মত আকর্ষণ করতো। যেখানে তিনি সেখানে ভিড়। উপচে পড়া ভিড়। তাঁর মাহফিলে কাতারে কাতারে মানুষ সামিল হতো। তাঁকে এক পলক দেখে খুশি হত বনি আদম। সুখ অনুভব করতো মানুষ। তাঁর মোহন পরশে ধন্য হতে রীতিমতো প্রতিযোগিতা হতো। চলত ধাক্কাধাক্কি ঠেলাঠেলি। জনশ্রোত সামাল দিতে আয়োজকমণ্ডলিকে হিমশিম খেতে হতো। উৎসুক জনতার ভিড় ঠেকাতে খাদিমদের নাভিশ্বাস হতো। আমীরে শরীয়তের আগমন হচ্ছে,এমন খবরে এলাকায় অন্য রকম পরিবেশ সৃষ্টি হতো। সবাই চাইতো তাঁর মাহফিলে শরিক হতে। দূর পাল্লার মানুষও যাত্রা করতো। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার মানুষ পাড়ি দিত। পায়ে হেঁটে। আনন্দে। পরমানন্দে। তাঁর সভা কানায় কানায় ভর্তি থাকতো। উপস্থিতির শতভাগ তাঁর মুরিদ মুজাজ থাকতেন, এমনটা নয়। বরং সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে বিধর্মীরাও ভিড় জমাতো। তাঁর অমৃত বাণী শ্রবণে শ্রুতামহল আত্মতৃপ্তি লাভ করতো। তাঁর জ্ঞানগর্ভ ভাষণে মানুষ মুগ্ধ হতো। ধন্য হতো সর্বশ্রেণীর মানুষ।

তিনি স্কুল-কলেজে সিরাত মাহফিলে যোগ দিতেন। পরিলক্ষিত হতো ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক অধ্যাপকদের মাঝে আশ্চর্য এক উৎসাহ উদ্দীপনা। মানুষ সমবেত হতো তাঁর মধুর কন্ঠের আন্তরিকতা পূর্ণ বক্তৃতা শুনতে। তাঁর হৃদয় বিগলিত মোনাজাতে শরিক হতে। তাঁর বক্তব্যে ছিল না কোনও লৌকিকতা। ছিল একেবারেই সাদামাটা। তবুও মানুষ পাগলপারা।

তিনি যেখানে ভিড় সেখানে। ঘরে ভিড়। বাইরে ভিড়। দিনে ভিড়। রাতে ভিড়। সাক্ষাৎকার চলতো ঘন্টার পর ঘন্টা। তাঁর সান্নিধ্যে বেশিক্ষণ থাকার সুযোগ থাকতো না। ভিড় ঠেকাতে বৈঠকখানার দেওয়ালে লেখা থাকতো, “কাজ শেষ হলে ক্ষমাপূর্বক চলে যান। অন্যকে সাক্ষাতের সুযোগ দিন।”

ফেব্রুয়ারি ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ। বদরপুর মালুয়া মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছিল পঁচিশতম ফিকহ সেমিনারের প্রকাশ্য অধিবেশন। ঐতিহাসিক মাহফিলটির মূল নায়ক ছিলেন আমীরে শরীয়ত। তাঁর ডাকে লক্ষ লক্ষ জনতার ঢল নেমেছিল। এদিন প্রমাণিত হয়েছিল তাঁর আকাশচুম্বী জপ্রিয়তা। প্রচণ্ড শীতের রাত। কনকনে হিমেল বাতাস। হাঁড় কাঁপানো ঠাণ্ডা। এসব উপেক্ষা করলেন লক্ষ লক্ষ জনতা। সারাটা রাত বসে থাকলেন। এ চিত্র আন্তর্জাতিক মাপের উলামায়ে কেরামের মনে নাড়া দিয়েছিল। তাঁদেরকে হতচকিত ও চমকিত করেছিল। তাঁরা হযরতের জনপ্রিয়তা সম্পর্কে আওড়েছিলেন ঐতিহাসিক মন্তব্য। তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন। যেগুলো লাল হরফে লিপিবদ্ধ করে রাখার দাবি রাখে।

আমীরে শরীয়ত আল্লামা তৈয়ীবুর রহমান বড়ভূইয়া রাহঃ এর জনপ্রিয়তার উজ্জ্বলতম উদাহরণ তাঁর নামাজে জানাজা। পাঁচ থেকে সাত লক্ষ জনতার সেই ঐতিহাসিক সমাবেশ। রীতিমতো জনসমুদ্রের রূপ ধারণ করেছিল জানাজার মাঠ। তিল ধারণের জায়গা ছিল না বিস্তৃত এই মাঠে । তাঁর জানাজায় শরিক হতে মানুষ ছুটেছিলেন পায়ে হেঁটে। গ্রাম বরাকের প্রায় সবকটা গাড়ি ছুটেছিল হাইলাকান্দি অভিমুখে। অটো রিক্সা ভাড়া পর্যন্ত ভাড়া করার সুযোগ ছিল না। করিমগঞ্জ থেকে হাইলাকান্দি পর্যন্ত ছিল তীব্র যানজট। অভূতপূর্ব যানজট। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছেন প্রাণপ্রিয় ব্যক্তিটিকে শেষ বারের মত দেখতে। উত্তর পূর্ব ভারতের ইতিহাস এমন জানাজা প্রত্যক্ষ করেনি।এদিনের জনারণ্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল, আমীরে শরীয়ত জনপ্রিয়তার কোন আসনে ছিলেন সমাসীন। আমজনতার হৃদয়ে তিনি কতটা জায়গা করে নিয়েছিলেন।

সুমহান এই আধ্যাত্মিক পুরুষ ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়। তাঁর শুভ পদার্পণে উৎফুল্লিত হত বনি আদম। এক্ষেত্রে জাতি ধর্ম বর্ণের কোন বালাই ছিল না। সবাই তাঁকে পেয়ে ধন্য হত। ঝাড় ফুঁকের জন্য রীতিমতো লাইন লেগে যেত। কী মুসলিম, কী হিন্দু। সবাই হত একই সারিতে একাকার।

amarkolom

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top