Home » ঈদুল ফিতরঃ করণীয় ও বর্জনীয়।

ঈদুল ফিতরঃ করণীয় ও বর্জনীয়।

Advertisements In Feed
Advertisements

ঈদ শব্দের অর্থ হচ্ছে ফিরে আসা,প্রত্যাবর্তন করা। ফিতর অর্থ ভঙ্গ করা,খুলে দেওয়া। বছর ঘুরে রমজান শেষে ফিরে আসে রোজা ভঙ্গ করার দিন। এদিন আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে পানাহার ও অন্যান্য বিধি নিষেধ থেকে মুক্ত করে দেন। তাই এটাকে বলা হয় ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব। দীর্ঘ এক মাসের কষ্টসাধ্য ও ত্যাগ-তিতিক্ষার সিয়াম সাধনার পর শাওয়ালের একফালি চাঁদ ঈদুল ফিতরের জানান দেয়। শেষ রমজানের সন্ধ্যায় আকাশের কোণে চাঁদ পরিদৃষ্ট হতেই সবার হৃদয় মনে খুশির জোয়ার বয়ে যায়। এদিন গোটা মুসলিম বিশ্ব মেতে উঠে আনন্দে। খুশিতে হয়ে উঠে মাতোয়ারা।

আনন্দের এই ঈদে আমাদের করণীয় ও বর্জনীয়ঃ
রমজান শেষে শুরু হয় ঈদের রাত। শরীয়তের দৃষ্টিতে এই রজনীটির রয়েছে যথেষ্ঠ গুরুত্ব ও ফজিলত। এ রাতে এবাদতমগ্ন থাকা মুস্তাহাব। আর এতে রয়েছে নজরকাড়া ফজিলত‌‌‌। মহানবী সাঃ উম্মতকে এ রাতের গুরুত্ব ও ফযীলত সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করতে রেখে গেছেন বহু হাদিস। নীচে এ সংক্রান্ত কয়েকটি হাদিস তুলে ধরছি।
১.মহানবী সাঃ এরশাদ করেছেন, আমার উম্মতকে রমজান সম্পৃক্ত বিশেষ পাঁচটি জিনিস উপহার দেওয়া হয়েছে। যেটা পূর্বের উম্মতকে দেওয়া হয়নি। এরমধ্যে একটি হচ্ছে রমজানের শেষ রাত। এ রজনীতে রোজাদারকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, মাগফিরাতের এই রজনীটি শবে কদর তো নয়? মহানবী সাঃ উত্তরে বললেন,না; বরং নিয়ম হল মজদুরের কাজ সমাপনের পরই তার মজুরী প্রদান করা। (মুসনাদে আহমদ)

২. হযরত আবু উমামা রাঃ থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ বলেছেন,যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং সওয়াবের প্রত্যাশায় ঈদের রাত এবাদতে কাটাবে, তার হৃদয় ঐ দিন জীবিত থাকবে যেদিন সবার হৃদয়-মন থাকবে মৃত।

৩. হযরত মুয়াজ ইবনে যাবাল রাঃ বর্ণনা করেন, মহানবী সাঃ এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি চারটি রজনী এবাদতে মশগুল থাকবে, তার উপর জান্নাত ওয়াজিব হবে। ঐ চারটি রাত হচ্ছে
১. ঈদের রাত ২.আট হিজলহজের রাত ৩.আরফার রাত,৪. দশ জিলহজের রাত।

৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, পাঁচটি রাত এমন আছে যেগুলোতে বান্দার দোয়া রদ করা হয় না। ঐ রাতগুলো হল, রজব মাসের প্রথম রজনী, জুমার রাত,শবে বরাত,এবং দুই ঈদের রাত।

ঈদের খুশিতে আত্মহারা হয়ে মাহাত্ম্যপূর্ণ ও ফজিলতভরা এই রজনীটি অনেকেই হাসি তামাশা এবং খুশি ফুর্তিতে কাটিয়ে দেন। যেটা সত্যিই দুঃখজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক। এ অভ্যাস ত্যাগ করা প্রয়োজন। ফজিলতপূর্ণ এই রজনীটি এবাদতে কাটিয়ে সাওয়াবের অধিকারী হওয়া উচিত।

ঈদের দিনের সুন্নাতসমূহঃ
১.সাতসকালে জেগে উঠা
২.গোসল করা ৩.মিসওয়াক করা ৪.সাধ্যানুযায়ী নতুন জামা কাপড় পরিধান করা ৫.সুগন্ধি ব্যবহার করা ৬.তাকবির বলা ৭.ঈদের নামাজের আগে সদকায়ে ফিতর আদায় করা ৮.নামাজে বের হওয়ার আগে বেজোড় খেজুর খাওয়া কিংবা অন্য কোন মিষ্টি খাদ্য আহার করা ৯. বন্ধুদের সাথে ঈদগাহে যাওয়া ১০. সকালে ঈদগাহে যাওয়া ১১. যাত্রাপথে তাকবির বলা ১২. এক রাস্তা দিয়ে গমন করা অন্য পথে প্রত্যাবর্তন করা ১৩.পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া। ( ঈদগাহ দূরে হলে কিংবা মুসল্লি অসুস্থ বা দুর্বল হলে গাড়িতে আরোহণ করতে পারেন)

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ঃ
ঈদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা সুন্নত। মহানবী সাঃ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের ভাষা শিখিয়ে দিয়েছেন। হাদিসে একে অপরকে “তাকাব্বালাল্লাহু মিনকা ও মিনকুম” বাক্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা এসেছে । এছাড়া নিজের প্রচলিত ভাষায়ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করার সুযোগ রয়েছে। ঈদের দিন সালাম, মুসাফাহা ও মুয়ানাকার প্রচলন বরাকের গ্রাম শহরে পরিলক্ষিত হয়। আসলে ঈদের দিনের জন্য কোন বিশেষ সালাম, মুসাফাহা ও মুয়ানাকা নেই। এ প্রচলন বর্জনীয়। মূলত একে অপরের সাথে সাক্ষাতের প্রথমে সালাম ও মুসাফাহা করা সুন্নত, আর দীর্ঘ দিন পর সাক্ষাৎ হলে মুয়ানাকা করা সুন্নত। এটার সাথে কোনো সময় বা দিন নির্দিষ্ট নয়।

ঈদের দিনে বর্জনীয়ঃ
ঈদের দিন রোজা রাখা এবং ইশরাকের নামাজ পড়া হারাম। আমাদের এ অঞ্চলে ঈদের দিন সম্মিলিতভাবে জিয়ারত করার দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা প্রমাণিত নয়। বরং বর্জনীয়। তবে একা একা জিয়ারত করতে পারেন‌।

ঈদের নামাজের পর খুতবা পাঠ করা সুন্নত এবং খুতবা শুনা ওয়াজিব। খুতবা পাঠের সময় চাঁদা সংগ্রহ করা, কথাবার্তা করা জায়েজ নয়। তাছাড়া কিছু সংখ্যক মানুষ ঈদের নামাজ পাঠ করেই ঈদগাহের মাঠ ত্যাগ করেন । এতে তাদের একটি ওয়াজিব অনাদায় থেকে যায়। এতে তারা গোনাহগার হন। এই অভ্যাস ত্যাগ করা আবশ্যক।
মুফতি রশিদ আহমদ কাসিমী
উপাধ্যক্ষ দারুল উলুম বদরপুর।

Rashid Qasimi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top