Home » উচ্ছেদ অভিযানঃ বনমন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্য সকাশে কিছু কথা

উচ্ছেদ অভিযানঃ বনমন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্য সকাশে কিছু কথা

Advertisements In Feed
Advertisements

করোনার ভয়াল থাবা গ্রাস করে নিচ্ছে গোটা দেশ। হাজার হাজার প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে প্রতিদিন। দিকে দিকে চলছে মৃত্যু মিছিল। স্বজন হারানো মানুষের কান্নার আওয়াজে আকাশ বাতাস ভারি হচ্ছে। অন্যদিকে চলছে লকডাউন-মিনি লকডাউন। ব্যবসা বাণিজ্যের চাকা একরকম অচল। মানুষ কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পারছে না রীতিমতো। করোনার যাতাকলে পৃষ্ঠ হয়ে কাজ হারিয়েছে দুই কোটির বেশি মানুষ । লক্ষ লক্ষ মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিন যাপন করছে। চলছে চূড়ান্ত আর্থিক মন্দা। অসহায় বেকার মানুষের হাহাকার ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে দেশের প্রান্তে প্রান্তে। মানুষের মনে একটা অভূতপূর্ব ভয় ও আতংক বিরাজ করছে। ভয়ে,আতঙ্কে এবং আত্মরক্ষার তাগিদে মানুষ ঘর থেকে বেরোচ্ছে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। এমনি এক দুর্যোগপূর্ণ সময়ে আপনার নির্দেশে পাথারকান্দির কটামনি ছলামনা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালালো করিমগঞ্জ বনবিভাগ। করোনা কালে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল গৌহাটি হাইকোর্ট। গৌহাটি হাইকোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হল। বনবিভাগ পরিবেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবপ্রেম ভুলে গেল।স্বামীজির মানবপ্রেম সম্পৃক্ত সেই মহাবাণীটি বেমালুম ভুলে গেলেন আপনিও!

মন্ত্রী মহোদয়। বর্ষার মৌসুমে করোনার আবহে আপনার নির্দেশে উচ্ছেদ করা হল কয়েকটি পরিবারকে। চোখের সামনে ডোজার লাগিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হল বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি। আশ্রয়হীন হয়ে গেলেন কয়েক শত মানুষ। এদের আর্তনাদ শুনার কেউ নেই। একদিকে ঘরে থাকতে, সুস্থ থাকতে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। অপরদিকে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়ে চিরতরে বের করে দেয়া হচ্ছে। এ তো সত্যিই বিচিত্র নীতি। বিরল নির্দেশনা। এই মহামারীর আবহে ডোজার চালিয়ে শত শত মানুষকে বেঘর করতে কেঁপে উঠল না আপনার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের হৃদয়। আপনার বিভাগের বিরল পরিবেশপ্রেম‌ ইতিহাস হয়ে থাকবে। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো আজ বড্ড অসহায় দেখাচ্ছে। খোলা আকাশের নীচে ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে আবাল বৃদ্ধ বনিতাকে। তারা মাথা গোঁজাবার জন্য একটু জায়গা পাচ্ছে না। পাচ্ছে না খাবার। করোনা আবহে কে তাদের আশ্রয় দেবে? বর্ষার মৌসুমে কোথায় তারা ঠাঁই পাবে? কে জোগাবে তাদের খাবার? দেশজুড়ে অসংখ্য মানুষ মরছে করোনায়। এবার বুঝি বনি আদম মরবে অনাহারে,অনাশ্রয়ে ও উচ্ছেদ অভিযানের বলি হয়ে। এমনি এক মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হল, যখন দেশ মহামারীতে নাজেহাল। গরিবের কথা বাদ দিলাম। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্তেরও মাথায় হাত। মানুষ বাজারে যেতে পারছে না। বেরুজগার বেকাররা ঘরে বসে বসে দিন গোজরানের অপেক্ষা করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রীর আকাশছোঁয়া মূল্য। মূল্যবৃদ্ধির যাঁতাকলে পিষ্ঠ হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান সত্যিই বড় যন্ত্রণাদায়ক ও অমানবিক। তারাও তো আপনার আমার মত মানুষ। রাজ্যের জনগণ। অন্তত এই দুর্যোগকালে তাদের ক্ষেত্রে একটু মানবিকতার পরিচয় দেয়া উচিত ছিল । এই উচ্ছেদ অভিযানকে অমানবিক আখ্যায়িত করলে আশ্চর্যের কিছু থাকবে না। এটাকে রাজ্যবাসী মোটেই ভালো চোখে দেখছে না । এরা কবে পুনর্বাসিত হবে ? এদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব সরকারের উপরই বর্তায়। বনমাফিয়ারা যদি সরকারি জমিতে ফিসারি আর রাবার বাগান করে থাকে, তাহলে সেগুলো ধ্বংস করে কেবল মাথা গোঁজাবার ঘরটা আপাতত রেখে দেওয়া যেত। আমরা উচ্ছেদ অভিযানের বিরোধী নই। সরকারী জমি দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হক। কিন্তু অন্তত এই দুর্যোগকালে সেটা মোটেই উচিত নয়।

মন্ত্রী সাহেব আপনার বন বিভাগের হাজার হাজার বিঘা জমি দখল করে বসেছে পার্শ্ববর্তী রাজ্য নাগাল্যাণ্ড ও মিজোরাম। আসামের জমিতে বসতবাড়ি গড়ছে তারা। কখনও স্কুলগৃহ গুড়িয়ে দিচ্ছে। আবার কোথাও মসজিদ দখল করে পুলিশ ক্যাম্প করছে। বিসানসভার সদস্যকে লক্ষ্য করে সীমান্তে গুলি করছে। বারবার প্রতিবাদ সত্ত্বেও মিজো ও নাগা আগ্রাসন বন্ধ হচ্ছে না। বরং তাদের আস্ফালন বেড়েই চলছে। সীমান্ত এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। মন্ত্রী সাহেব!আশাকরি আপনার আশু নির্দেশ হবে। বনবিভাগ গুড়িয়ে দেবে আগ্রাসীদের নির্মাণকাজ। দখলমুক্ত হবে আসামের হাজার হাজার বিঘা জমি। আর সেখানে বৃক্ষ রোপন অভিযান চালিয়ে বনবিভাগ পরিবেশ রক্ষা করবে।

করিমগঞ্জের নটিখালে শতশত বসতবাড়ি সরকারী জমিতে গড়ে উঠেছে। শহরে জমাজল সমস্যার মূলে এই সেই নটিখাল। শহরকে জমাজলমুক্ত করতে আপনার সরকার নটিখাল দখলমুক্ত করবে নিশ্চয়। তাছাড়া পাথারকান্দির বৈঠাখালে সরকারী জমিতে বসতবাড়ি গড়ে উঠেছে। আমরা চাই সব সরকারি জায়গা দখলমুক্ত হোক। এবং অসহায় মানুষকে সরকার পুনর্বাসন দিক।

মুফতি রশিদ আহমদ কাসিমী,
পুরান চান্দপুর পাথারকান্দি।

Rashid Qasimi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top