Home » এক ব্যতিক্রমী আধ্যাত্মিক বক্তা আল্লামা তৈয়ীবুর রহমান বড়ভূইয়া রাহঃ।

এক ব্যতিক্রমী আধ্যাত্মিক বক্তা আল্লামা তৈয়ীবুর রহমান বড়ভূইয়া রাহঃ।

Advertisements In Feed
Advertisements

আমীরে শরীয়ত আল্লামা তৈয়ীবুর রহমান বড়ভূইয়া রাহঃ ছিলেন আধ্যাত্মিক জগতের রাঙা রবি। প্রকৃত ইলমে তাসাউফের আলোয় মুসলিম উম্মাহকে আলোকোজ্জ্বল করতে তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। মহান আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পর্ক গড়ে তোলতে তিনি ছিলেন ব্যাকুল। তাসাউফের সুশীতল ছায়ায় মানুষকে আশ্রয় দিতে ছুটে যেতেন স্থানে স্থানে। প্রান্তে প্রান্তে। অস্থির চিত্তে। চোখে মুখে উম্মাহর দরদ মেখে। সুন্নতে নুবওয়ীর প্রচারক রূপে। আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খানকায় তাঁর আবির্ভাব ঘটতো নির্মেঘ আকাশে আলো ঝলমলে সূর্যের ভূমিকায়। তাসাউফের সোনালী কিরণ ছড়াতেন তিনি দেশ-বিদেশের খানকায় খানকায়। তাঁর প্রজ্ঞাদীপ্ত ও বিজ্ঞোচিত বক্তৃতা চৌচির হৃদয়-মনে বারিপাতের কাজ করতো। তাঁর শুভ্রোজ্জ্বল চেহারা মানুষকে দারুণভাবে আকর্ষণ করতো। তাঁর হৃদয়গ্রাহী খানকাহী বয়ানে তথ্য ও তত্ত্বের সমারোহ ঘটতো। কুরআনের আয়াত ও হাদীসের এবারত উদ্ধৃত হতো। তাঁর নিষ্ঠাপূর্ণ বক্তব্য মানুষের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করতো। দরদপূর্ণ আলোচনা সালিকিনদের হৃদয় বিগলিত করতো। হযরতের সাদামাটা ভাষণে বিমুগ্ধ বিমোহিত হতেন হরেক কিসিমের মানুষ। তাঁর নুরানী দীপ্তিময় চেহারা দেখে মন তৃপ্তিতে প্রাপ্তিতে প্রশান্তিতে ভরে যেত। আধ্যাত্মিক জ্ঞানের নিগূঢ় রহস্য উদঘাটন করা বয়ান শুনতেন উৎকর্ণ হয়ে তন্ময়চিত্তে। তাঁর জবানে শুনা যেত আধ্যাত্মিক পুরুষদের আশ্চর্য সব কীর্তি।

তিনি প্রতিটি খানকায় জ্ঞানগর্ভ ও তথ্যপূর্ণ বক্তৃতা করতেন। একেকটি আয়াতকে অবলম্বন করে চলতো দিনের পর দিন তাত্বিক আলোচনা। একেকটি হাদিসের সূত্র ধরে আলোচনা করতেন ঘন্টার পর ঘন্টা। তাসাউফের বিভিন্ন কিতাবের উদ্ধৃতি আওড়াতেন ধারাবাহিকভাবে। জ্ঞান প্রসূত বয়ানে ফুটে উঠতো ইলমে তাসাউফের গুরুত্ব ও তাৎপর্য। প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনায় কোন প্রসঙ্গের পুনারাবৃত্তি হত না। তাঁর হৃদয়স্পর্শী ও মনোগ্রাহী বয়ান মানুষের হৃদয় সাগরে তরঙ্গোচ্ছাস সৃষ্টি করত। খোদার প্রেমে হাবুডুবু খেতেন সালিকিগণ।

প্রকৃত তাসাউফ কী? কী এর প্রয়োজনীয়তা? কী হতে পারে আসল পীরদের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী। কোন কোন গুণাবলীকে সামনে রেখে মুর্শিদ নির্বাচন করা আবশ্যক। সত্যিকারের পীর নির্বাচনের গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা এবং ফজিলত নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করতেন উদ্বেগভরা কণ্ঠে। যাতে মানুষ প্রকৃত ওলিগণের সান্নিধ্যে তাসাউফের সুধা পানে ধন্য হয়। আল্লাহর নৈকট্য লাভে সক্ষম হয়। তিনি নামধারী, লেবাসদারী ও বিদায়াতী পীরদের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী বর্ণনায় ছিলেন আপোষহীন। বজ্রকন্ঠে নামধারী ভণ্ডপীরদের মুখোশ উন্মোচন করতেন। তাসাউফের নামে যেসব ভণ্ডামী চলছে, সেসবের পর্দা ফাঁস করতেন নির্দ্বিধায়। নির্ভয়ে। জাতিকে ভণ্ড পীরদের সংস্পর্শ থেকে যোজন যোজন দূরে থাকতে দরদমাখা গলায় অনুরোধ করতেন। তিনি বলতেন, শরীয়তের উপর আমল এবং সুন্নতের পাবন্দী ছাড়া কেউ তাসাউফ জগতের রাজতোরণের পাশ ঘেঁষতেও পারে না। আধ্যাত্মিকতার পূর্ব শর্ত হল,শরীয়তের সমস্ত নির্দেশিকা মেনে চলা এবং জীবন পথের প্রতিটি ক্ষণে সুন্নতকে আঁকড়ে ধরা। তিনি বিস্ময়ঝরা কন্ঠে বলতেন, নেই শরীয়তের পাবন্দী,নেই ইলম ও আমল;নেই নামাজ-রোজা- সুন্নত নফল। এমন ভণ্ডকেও মানুষ পীর নির্বাচন করে ! আস্ত উলঙ্গ মানুষের সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করে। যারা দিনের পর দিন গোসলও করে না, তাদের দরবারে পরিলক্ষিত হয় উপচে পড়া ভীড়। তিনি আফসোস করে করে জাতিকে এদের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে আহ্বান জানাতেন। তিনি বলতেন, নামধারী ভণ্ডপীরগণ পথভ্রষ্ট। আর তারা জাতিকেও করে পথভ্রষ্ট ।

সর্বোপরি আমীরে শরীয়ত আল্লামা তৈয়ীবুর রহমান বড়ভূইয়া রাহঃ প্রকৃত ইলমে তাসাউফের পরিচিত এবং এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জাতিকে সচেতন করতে কোনও খামতি করেন নি। যাতে আমজনতা সঠিক পথের দিশা পায় । আর বিদায়াত ও কুসংস্কারপূর্ণ তাসাউফ নামের ভণ্ডামী থেকে বিরত থাকে।

Rashid Qasimi

5 thoughts on “এক ব্যতিক্রমী আধ্যাত্মিক বক্তা আল্লামা তৈয়ীবুর রহমান বড়ভূইয়া রাহঃ।

  1. আমাদের দেশে ধর্ম থেকে, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি বেশি..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top