Home » এতেকাফঃ গুরুত্ব ও ফজিলত।

এতেকাফঃ গুরুত্ব ও ফজিলত।

Advertisements In Feed
Advertisements

এতেকাফ শব্দটি আরবী “আকফ” ধাতু থেকে নির্গত। যার অর্থ অবস্থান করা,স্থির থাকা, কোন স্থানে আবদ্ধ হয়ে পড়া। শরীয়তের পরিভাষায় এতেকাফ বলা হয়, রমজানের শেষ দশকে কিংবা অন্য কোনও দিন জাগতিক সব কাজকর্ম ত্যাগ করে পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং নৈকট্য লাভের নিষ্ঠাপূর্ণ আশায় মসজিদে অবস্থান করা। আর মহিলাদের ক্ষেত্রে ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করা।

এতেকাফ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি ইবাদত। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের আশায় এতেকাফ পালন করলে নজরকাড়া ফজিলতের অধিকারী হওয়া যায়। মহান আল্লাহ এতেকাফের গুরুত্ব ও মহত্বের জানান দিয়ে কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন-‘আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার ঘরকে পবিত্র কর তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য।’ (সূরা বাকারা আয়াত ১২৫)

এতেকাফ তিন প্রকার
১.ওয়াজিবঃ মান্নতকৃত এতেকাফ, যেটা পালন করা আবশ্যক। যেমন,কোন ছাত্র মান্নত করল যে,পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হলে একদিন এতেকাফ পালন করব। তারপর সে পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পাশ করল। এবার তার উপর একদিন এতেকাফ ব্রত পালন করা ওয়াজিব হয়ে গেল। সে যদি একদিনের এতেকাফ পালন না করে, তাহলে গোনাহগার হবে। এবং এটা আদায়ের দায়িত্ব তার কাঁধে অর্পিত থাকবে।
২.সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ আলাল কিফায়াঃ রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ পালন করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ আলাল কিফায়া। অর্থাৎ কুড়ি রমজানের সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে ঈদের চাঁদ পরিদৃষ্ট হওয়া পর্যন্ত এই এতেকাফ পালন করা আবশ্যক। গোটা গ্রামবাসীর পক্ষে যেকোন একজন রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ ব্রত পালন করলে সবার দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু কেউ যদি এতেকাফ পালন না করেন, তাহলে সারা গ্রামবাসীর উপর ওয়াজিব পরিত্যাগের গোনাহ হবেন।

তিনঃ নফল এতেকাফ। এটা কোন‌ ব্যক্তি বা সময়ের সাথে নির্দিষ্ট নয়। পালন করাও আবশ্যক নয়। যেকোন ব্যক্তি যেকোনও দিন নফল এতেকাফ করতে পারেন। হতে পারে একটি মুহুর্ত অবস্থান। আর হতে পারে দিনের পর দিন অবস্থান। আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং নৈকট্য লাভের প্রত্যাশায় মসজিদে কিংবা ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে (মহিলাদের ক্ষেত্রে) অবস্থান করাকে নফল এতেকাফ বলা হয়। মসজিদে প্রবেশের সময় নফল এতেকাফের নিয়ত করা উত্তম। সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ আলাল কিফায়া এবং ওয়াজিব এতেকাফ পালনের জন্য রোজা রাখা জরুরি। রোজা ব্যতিত এতেকাফ আদায় হবে না।

হাদিসের আলোকে এতেকাফঃ
১. হযরত আয়েশা রাঃ বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ রমজানের শেষ দশকে মসজিদে এতেকাফ করতেন। মৃত্যু অবধি তিনি এ আমল অব্যাহত রেখেছেন। (বোখারী শরীফ)
২.হযরত ইবনে উমর রাঃ থেকে বর্ণিত, মহানবী সাঃ রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ পালন করতেন। (বোখারী শরীফ)
৩.হযরত আবু হুরায়রা রাঃ বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমজানে‌ দশদিন এতেকাফ করতেন। কিন্তু মৃত্যু বর্ষে কুড়িদিন এতেকাফ করেছেন (বোখারী শরীফ)
৪.হযরত আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত মহানবী সাঃ রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ পালন করতেন এবং বলতেন রমজানের শেষ রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করো। বোখারী শরীফ

এতেকাফের ফজিলতঃ ১.হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ইতিকাফকারী সর্ব প্রকার পাপ হতে মুক্ত থাকে এবং অন্যরা বাইরে আমল করে যে নেকী লাভ করে সে এতেকাফে থেকে বাইরের আমলগুলো না করেও সেই পরিমাণ নেকী লাভ করে।
ইবনে মাজা: ১৭৮১

২. হযরত হুসাইন রাঃ থেকে বর্ণিত মহানবী সা এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশদিন এতেকাফ করল, পক্ষান্তরে সে দুই হজ এবং দুই ওমরাহ করল। শুয়াবুল ঈমান ৩৬৮১

এছাড়া বিভিন্ন ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রয়েছে যেগুলো বিভিন্ন কিতাবের পাতায় পাতায়। পরিতাপের বিষয় হল মহত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ এই এবাদতে আজকাল মুসলমানদের অনীহা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এতেকাফ আদায়ে আগ্রহীদের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। কে আদায় করবেন এতেকাফ। গ্রামে এ নিয়ে থাকে যতসব জল্পনা কল্পনা। সবাই দেখাতে থাকেন হাজার বাহানা। অবশেষে ইমাম সাহেবকে এ দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে মসজিদের ইমামকে এতেকাফ পালনে বাধ্য করা হয়। যেটা সত্যিই এক অশনিসংকেত। আসলে এ দায়িত্ব মুসল্লিদের। গ্রামবাসী এটা পালন করবেন। ইমাম সাহেব নয়। তাই আসুন এ ফজিলতপূর্ণ এবাদতে সোৎসাহে অংশগ্রহণ করি। এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং নৈকট্য লাভে ধন্য হই।

Rashid Qasimi

One thought on “এতেকাফঃ গুরুত্ব ও ফজিলত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top