Home » ক্ষমতার অপব্যবহার ও এর পরিণতি

ক্ষমতার অপব্যবহার ও এর পরিণতি

Advertisements In Feed
Advertisements

ক্ষমতা বড়ই স্পর্শকাতর। বড়ই নাযুক। ক্ষমতার সদ্বব্যবহারে ক্ষমতাবান হয়ে উঠেন স্মরণীয় ও বরণীয়। শ্রদ্ধাস্পদ ও সম্মানিত। সুনাম ছড়িয়ে পড়ে দিক দিগন্তে। নিরহংকারী,ন্যায় নিষ্ঠাবান শাসকের পরশে ক্ষমতার সমৃদ্ধি ঘটে। সমাজে আসে সুখ শান্তি সমৃদ্ধি। আবার সেই ক্ষমতার অপব্যবহারে কেউ কেউ হয়ে উঠেন ইতিহাসের খলনায়ক। চিরঘৃণিত। চিরতিরস্কৃত। মানুষ তাদেরকে নিন্দাবাদ দেয়। এক সময় ক্ষমতা বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। তখন অবস্থা বেগতিক হয়ে যায়। রাজ সিংহাসনের শোভা তখন লালঘরের অতিথি হন। যার আশপাশ‌ থাকতো দেহরক্ষী ও গুণমুগ্ধে ঘেরা তাকে শ্রীঘরে কাটাতে হয় একাকীত্বের জীবন। শিকার হতে হয় কল্পনাতীত নির্যাতনের। অত্যাচারী শাসকেরা যখন ক্ষমতাচ্যুত হন, তখন ঘনমানুষ আনন্দ উদযাপন করে। খুশি ব্যক্ত করে। তাদের পক্ষে কেউ প্রতিবাদের স্বর উঁচু করে না। তাদের হয়ে কথা বলার কেউ থাকে না। এক সময় যাদের দিয়ে নির্যাতনের ষ্টিম রোলার চালিয়েছিলেন তারাই এবার তার দিকে বন্দুক তাক করে। রক্ত চক্ষু দেখায়। নিষ্ঠুরতার আবির মেখে পাঠিয়ে দেয় জেলখানায়। দিনের পর দিন বছরের পর বছর কারাগারের থাকতে হয়। নির্যাতনের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে মৃত্যু মুখে পতিত হতে হয়। কেউ রাখে না খবর। কেউ করে না খোঁজ। সেই হতাভাগা শাসকগোষ্ঠীর তালিকায় পৃথিবীর নিকৃষ্টতম জীব মায়ানমারের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আং সাং সু কী এর নাম জুড়ে দেয়া হয়েছে। এই সেই অত্যাচারীণীর আঙুলি নির্দেশে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর চালানো হয়েছিল ইতিহাস খ্যাত হত্যাযজ্ঞ। যার প্রসন্ন মদতে সেখানকার বুদ্ধ ভিক্ষু ও সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা নির্যাতনে মেতে উঠেছিল। রক্তের হোলি খেলেছিল। হাজার হাজার নিরীহ নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে বেঘর করেছিল লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদেরকে। এটা ছিল ইতিহাসের
নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ড। রাষ্ট্রীয় মদতে চালানো নিধনযজ্ঞ। তাদের নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা চোখের জলে ভেসে প্রিয় মাতৃভূমি ত্যাগ‌ করেছিল। ভীন দেশে পাড়ি জমিয়েছিল। কী ভয়ে কী কষ্টে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছিল তারা। কী ত্যাগের বিনিময়ে তারা আজ জীবন যাপন করছেন। তাদের উপর এই অমানবিক নির্যাতন সহ্য হয়নি মহান রবের। মাত্র বছর দুয়েক হয়েছে। নেমে এসেছে শাস্তির খাড়া। কঠোর শাস্তি। শুরু হয়েছে সেনা অভ্যূত্থান। এক সময় যারা রাষ্টপ্রধান আং সাং সু কী এর কথায় উঠাবসা করতো। তার নির্দেশে হত্যালীলা চালাতো তারাই তাকে গ্রেফতার করেছে। পাঠিয়ে দিয়েছে জেলখানায়। সরকারের অন্যান্য লোকদের পাঠিয়ে দিয়েছে জেলে । সরকার সমর্থিতদের নির্বিচারে হত্যা করেছে। এই করুণ চিত্র থেকে বিশ্বের ক্ষমতাধরদের শিক্ষা নেয়া উচিত। মনে রাখা উচিত ক্ষমতাযন্ত্র স্থায়ী নয়। ক্ষমতার অপব্যাবহার করলে অবশ্যই এর ফল ভোগ করতেই হবে। আর এই বিচার শেষ নয়। রয়েছে আসল বিচার। মহাবিচার । কী অভাবনীয় শাস্তি হবে। কে জানে এর ভয়াবহতা কতটুকু?

Rashid Qasimi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top