Home » জাতির দরদী রাহবার ক্বারী উসমান মানসুরপুরী রাহঃ।

জাতির দরদী রাহবার ক্বারী উসমান মানসুরপুরী রাহঃ।

Advertisements In Feed
Advertisements

মানুষ মরণশীল। জন্মালে একদিন মরতেই হয়। মৃত্যু স্বাদ গ্রহণ করতে হয় সব প্রাণীকেই। মৃত্যুর সেই চিরন্তন ধারাবাহিকতায় প্রতিদিন হারিয়ে যায় কতশত বনি আদম। না ফেরার দেশে চলে যায় জানা-অজানা কত মানুষ। পরপারে পাড়ি দিয়ে তারা ধীরে ধীরে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়। কেউ রাখে না তাদের খবর। কেউ করে না স্মৃতিচারণ। কাঁদে না কারো মন। কিন্তু পৃথিবীতে এমনও কিছু ক্ষণজন্মা হাতেগোনা বনি আদম পাওয়া যায়,যারা মরেও থাকেন অমর। যাদের চলে যাওয়া মানুষকে বড্ড কষ্ট দেয়। খুব কাঁদায়। শূন্যতা সৃষ্টি করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। তাঁরা বেঁচে থাকেন আপন আপন কীর্তিতে। চিরউজ্জ্বল থাকেন মানুষের হৃদয়-মনে। অম্লান থাকেন ইতিহাসের পাতায় পাতায়। সেই ধারাবাহিকতার খসে পড়া এক উজ্জ্বল নক্ষত্র কারী মুহাম্মদ উসমান মনসুরপুরী রাহঃ।

কারী উসমান মনসুরপুরী রাহঃ ছিলেন বহু অসাধারণ গুণের এক অপূর্ব আধার। তিনি ছিলেন একাধারে সুযোগ্য মুহাদ্দিস,সুদক্ষ পরিচালক,সুদৃঢ় সংগঠক, সুবিখ্যাত সাহিত্যিক,সুলেখক ও প্রাবন্ধিক। ছিলেন আধ্যাত্মিক জগতের সমুজ্জ্বল নক্ষত্র, জাতির দরদী রাহবার। ছিলেন কৌমের নিষ্ঠাবান খাদিম, দেশ ও জাতির জন্য জীবন উৎসর্গ করা এক মহামানব।
দৈহিক সৌন্দর্য, চারিত্রিক গুণাবলী,সৌজন্যবোধ, বংশীয় আভিজাত্য, খোদাভীতি ও পূত পবিত্রতার সাথে সাথে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে দান করেছিলেন সুশৃঙ্খল ও সুনিয়ন্ত্রিত এক জীবনাচার।

জাতির এই দরদী রাহবার জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৪৪ সালের ১২ই আগস্ট। উত্তর প্রদেশের মুজাফফর নগর জেলার মনসুরপুরে। একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তাঁর পিতা নবাব সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ ঈসা (রহ.) ছিলেন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। ছিল তাঁর নামডাক, যশখ্যাতি। তিনি ছিলেন একজন ধর্মভীরু খাঁটি মুসলমান। ধর্মের প্রতি ছিল তাঁর আলাদা টান এবং অগাধ সম্মান ও বিশ্বাস। সন্তানদেরকে ইলম ও আমলের পথে পরিচালিত করার প্রচণ্ড ইচ্ছা ও আকাঙ্খা ছিলো নবাব মুহাম্মদ ঈসা (রহ.) এর। সন্তানদের ইলমে দ্বীনে সুশিক্ষিত করে তোলতে বাড়ি ছেড়েছেন। চলে এসেছেন দেওবন্দ এলাকায়। এখানেই পরবর্তী জীবন কাটিয়ে ১৯৬৩ সালে তিনি দেওবন্দেই ইন্তেকাল করেছেন। দ্বীনি শিক্ষাপ্রেমী এই মহামানব শায়িত আছেন মাকবারায়ে কাসেমীতে।

হযরত ক্বারী উসমান মানসুরপুরী (রহ.) এর ছাত্র জীবনের সূচনা হয়েছিল নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশ পিতার কাছেই পবিত্র কুরআন শরীফ হিফজ সমাপ্ত করেন। এরপর ভর্তি হন বিশ্বনন্দিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দারুল উলুম দেওবন্দে। এখানে ফার্সি জামাত থেকে শুরু করে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ছাত্র জীবনের ধাপে ধাপে ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জন করেছেন। ১৯৬৫ সালে দারুল উলুম দেওবন্দের দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।

এরপর ভর্তি হন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কিরাত বিভাগে ১৯৬৬ সালে । ক্বারী হিফজুর রহমান (রাহঃ) ও ক্বারী আতীক (রাহঃ) এর কাছে কিরাআত ও তাজওয়ীদ শাস্ত্রীয় জ্ঞান অর্জন করে কারী উপাধীতে ভূষিত হন। পরবর্তীতে এ উপাধীতেই দেশ-বিদেশে সুখ্যাতি অর্জন করেন। অতঃপর আরবী সাহিত্য বিভাগে ভর্তি হন। ভুবনজোড়া খ্যাতিমান আরবী সাহিত্যিক মাওলানা ওয়াহিদুজ্জামান কিরানওয়ী (রাহঃ) এর নিকট আরবী ভাষা ও সাহিত্যে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন।

ছাত্র জীবনের পরিসমাপ্তির পর মাওলানা মনসুরপুরী বয়াত হন ফিদায়ে মিল্লাত হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রাহঃ) এর কাছে। তাঁর নিকট সুলূক ও মারেফাতের খিলাফাত ও ইজাযত লাভে ধন্য হয়েছিলেন। হযরত মনসুরপুরী ছিলেন আধ্যাত্মিক জগতের আলো জ্বলজ্বলে নক্ষত্র। তাঁর নুরস্নাত চেহারার ঝলমলানি আকর্ষণ করতো । তাঁর জীবন যাপন ছিল সুন্নতময়। চিন্তা চেতনা, চাল-চলন, কথা-বার্তা,বেশ-ভূষা ও উঠা-বসায় একজন আধ্যাত্মিক পুরুষের চিত্র ফুটে উঠতো।

কৃতি ছাত্র মুহাম্মদ উসমান মনসুরপুরী গৌরবোজ্জ্বল ছাত্র জীবনের যবনিকা টেনে শুরু করেন শিক্ষকতা। শিক্ষকতা জীবনে তিনি সুখ্যাতি ও সাফল্য অর্জন করেছিলেন। আদর্শ শিক্ষক হিসেবে সমাদৃত হয়েছিলেন। তাঁর অধ্যাপনা জীবনের শুভারম্ভ হয়েছিল বিহারের জামিয়া কাসেমিয়াতে। এখানে যোগ্যতার সাথে পাঁচ বছর শিক্ষকতা করেন । এরপর চলে আসেন উত্তর প্রদেশের জামিয়া ইসলামিয়া জামে মসজিদ আমরুহায় । বিখ্যাত এই মাদ্রাসায় পাঠদান করেছেন সুদীর্ঘ এগারো বছর। তাঁর অসাধারণ পাঠদান, সুগভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এবং যোগ্যতার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে। ফলে বিশ্বনন্দিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে অধ্যাপনার ডাক আসে। ১৯৮২ সালে দারুল উলুম দেওবন্দে অধ্যাপনায় যোগ দেন। সেই ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ থেকে দারুল উলুম দেওবন্দে শিক্ষকতা করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। ধীরে ধীরে পদোন্নতি লাভ করেছেন। অবশেষে মর্যাদাপূর্ণ মুহাদ্দিস পদে নিযুক্ত হয়েছেন। যোগ্যতার সাথে হাদিসের দরস প্রদান করেছেন। দেশ বিদেশের হাজার হাজার ছাত্রদের হাদিসের পাঠদানে ধন্য করেছেন। তাঁর দরস ছিল অহেতুক,অনর্থক হাস্যরস মুক্ত নির্ঝঞ্ঝাট ও প্রজ্ঞাপূর্ণ । খুব পরিস্কার ভাষায় আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গীতে বুঝাতেন তিনি। অনুবাদ করতেন প্রাঞ্জল ভাষায়। বিভিন্ন শাস্ত্র ও বিষয়াদির কিতাব পাঠদান করতে চমৎকার ভঙ্গীমায়। তাঁর পাঠদান ছিল বেশ চমৎকার। নরম নরম কথামালা এবং অভিভাবকোচিত পরামর্শ ছাত্রদের হৃদয় মনে তোলপাড় করতো। ছাত্রদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন ও তাদের বিপদে পরম বন্ধুর মতো পাশে থাকা ছিলো তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্য। এক কথায় তিনি ছিলেন আদর্শ অধ্যাপক। হযরত ছিলেন খুব পাঠপ্রিয়। কী গাড়িতে কী বাড়িতে সর্বত্র অধ্যয়নরত থাকতেন। জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের কেন্দ্রীয় সভাপতি হওয়ার সুবাদে সফর ছিল যথেষ্ট। প্রায়শ দেখতাম সেই কালো রঙের বিলাসবহুল গাড়িতে বসে বসে পড়াশোনা করছেন। কতবার যে তাকে গাড়িতে বসে পড়তে দেখেছি তার হিসেব কে রাখে। অশীতিপর বৃদ্ধ মানুষটির গাড়িতে বসে বইয়ের পাতায় চোখ রাখা আমাকে বিস্ময়াভিভূত করতো।

হযরত মাওলানা উসমান মনসুরপুরী রাহঃ অধ্যাপনার সাথে সাথে জড়িয়ে পড়েছিলেন সাংগঠনিক কাজে। জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের প্ল্যাটফর্মে থেকে জনসেবামূলক সামাজিক কাজও অব্যাহত রেখেছিলেন। ১৯৭৯ সালে ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রাহঃ) এর নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও, জাতি বাঁচাও’ আন্দোলনে যোগ দেন। গ্রেপ্তার হয়ে দশ দিন তিহার জেলে আটক ছিলেন। অতঃপর জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করেন।

২০০৬ সালে ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রাহঃ) এর ইন্তেকাল করেন। এরপর মাওলানা উসমান মনসুরপুরী সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে জমিয়তের নেতৃত্ব প্রদানে এগিয়ে আসেন । ২০০৮ সালের ৬ মার্চ জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলা সুযোগ্য এই ব্যক্তিত্বকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত করে। অতঃপর ৫ এপ্রিল ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সভাপতি নির্বাচিত হন। দীর্ঘ চৌদ্দ বছর জাতীয় এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন সফলভাবে। সংগঠনের কাজে চষে বেড়িয়েছেন দেশের আনাচে কানাচে।

হযরত ক্বারী উসমান মানসুরপুরী (রহ.) এর সুযোগ্য নেতৃত্বে জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ দেশের প্রান্তে প্রান্তে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও রাষ্ট্র বিরোধী চক্রান্তের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে এবং ইসলামের শান্তির পয়গাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ‘আমনে আলম কনফারেন্স’ বা বিশ্ব শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। তিনি প্রতিনিয়ত ভারতের সকল দলকে এক মঞ্চে একত্রিত করার প্রয়াস চালিয়েছেন। সে লক্ষ্যেই জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ ২০১৯ সালে এক অনুষ্ঠানে হিন্দু-মুসলিম নেতৃবৃন্দকে একই মঞ্চে হাজির করেছিল। ঠিক তেমনিভাবে ২০১৭ সালে তাঁর নেতৃত্বে ভারতের এক হাজার শহরে একসাথে ‘আমান মার্চ’ বা শান্তি র‍্যালী বের হয়েছিল। এ ছাড়া তিনি মুসলমানদের মাঝে আভ্যন্তরীণ ঐক্য তৈরীর লক্ষ্যে বিরাট কাজ করেছেন। ২০১১ সালে মুসলমানদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ‘দেশ বাঁচাও, জাতি বাঁচাও’ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এসব ছিল তাঁর জীবনের এক সোনালি অধ্যায়।

২০১৬ সালে আজমির শরীফে জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের ৩৩ তম সাধারণ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। যেখানে মুসলমানদের দুই পক্ষ একত্রে একই মঞ্চে অবস্থান নেয় এবং বিশ্বব্যাপী ঐক্যের পয়গাম তুলে ধরে।

দিল্লি, কাশ্মীর, মুজাফফর নগর, আসাম, বিহার ইত্যাদি দাঙ্গা কবলিত এলাকায় মুসলমানদের সেবা ও সাহায্য সহযোগিতায় কাজ করেছেন সশরীরে সামনের কাতারে থেকে। তিনি জাতির দুর্দশায় পাশে দাঁড়িয়েছেন আন্তরিকভাবে। নিপীড়িত মানুষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন অবলীলায়।

২০১০ সালে আমিরুল হিন্দ হযরত মাওলানা মারগুবুর রহমান সাহেব (রহ.) ইন্তেকাল করেন। তাঁর জীবনাবসানের পর হযরত মাওলানা উসমান মনসুরপুরী রাহঃ কে আমীরুল হিন্দ নির্বাচিত করা হয়। আমৃত্যু তিনি এই মহান দায়িত্ব যোগ্যতার সাথে পালন করে গেছেন।

অক্টোবর ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়াত সম্মেলনের আহ্বান করেছিলেন মাওলানা মনসুরপুরী রাহঃ। এরই মধ্যে অল ইন্ডিয়া মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তিনি এর সভাপতি নির্বাচিত হন। হযরতের নেতৃত্বে সংগঠনটি গোটা দেশে কাদিয়ানি ফিতনার বিরুদ্ধে অনেক কাজ করেছে। এটা তাঁর সংগ্রামী এক মাইল ফলক।

হযরত মনসুরপুরী রাহঃ ছিলেন একজন সফল পরিচালক। দারুল উলুম দেওবন্দ এর মত বিশাল প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় নিয়োজিত হয়েছিলেন বারবার। ১৯৯৯ থেকে ২০১০ সাল। সুদীর্ঘ বারো বছর বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী শিক্ষাঙ্গন দারুল উলুম দেওবন্দের মর্যাদাপূর্ণ নাইবে মুহতামিমের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছিলেন হযরত মানসুরপুরী (রাহঃ)। এরপর স্বেচ্ছায় নাইবে মুহতামিম পদ থেকে সরে দাঁড়ান। ২০২০ সালে দারুল উলূম দেওবন্দের মজলিসে শূরা তাঁকে নির্বাহী মুহতামিম হিসেবে নির্বাচিত করে। বিগত রমজান মাসে তিনি দারুল উলূম দেওবন্দের ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজের চাপ ও বিভিন্ন ধরণের ব্যস্ততার দরুন বড় আকারে রচিত কোন গ্রন্থ করতে পারেন নি। তবে তাঁর লেখা প্রবন্ধ ও পুস্তিকাসমূহ পড়লে বুঝা যায় তাঁর রচনাশৈলি ছিল চমৎকার।

১৯৬৬ সালে তিনি শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রহ.) এর কন্যার সাথে সুন্নত মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা যাকারিয়া কান্ধলবী (রহ.) তাঁর বিবাহ পড়িয়েছিলেন।ব্যক্তি জীবনে তিনি দুই ছেলে ও এক কন্যার পিতা ছিলেন। জ্যোষ্ট সাহেবজাদা মাওলানা মুফতি সাইয়্যিদ সালমান মানসুরপুরী শাহী মুরাদাবাদ মাদরাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। শাহি মুরাদাবাদের মাসিক মুখপত্র নেদায়ে শাহী এর সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। তাছাড়া একাধিক খণ্ডবিশিষ্ট ডজন খানেক গ্রন্থ রচনা করেছেন।

কনিষ্ঠ সাহেবজাদা মাওলানা হাফিজ ক্বারী সাইয়্যিদ আফফান মানসুরপুরী জামিআ ইসলামিয়া আরাবিয়া জামে মসজিদ আমরূহা মুহাদ্দিস ও প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

২১ মে শুক্রবার । দুপুর দেড়টায় জুমার নামাযের সময় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গুরগাঁও হাসপাতালের আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ক্বারী মুহাম্মদ উসমান মানসুরপুরী রাহঃ। তাঁর তিরোধানে উপমহাদেশের দুই সুবিশাল দ্বীনী প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দ ও জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের অপূরনীয় ক্ষতি হল। জাতি হারালো এক নিষ্ঠাবান রাহবর। আল্লাহ তায়ালা প্রিয় উস্তাদের কবরকে নূর দিয়ে ভরপুর করে দিন।
মুফতি রশিদ আহমদ কাসিমী,
উপাধ্যক্ষ দারুল উলুম বদরপুর।

Rashid Qasimi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top