Home » দারুল উলূম দেওবন্দঃ পরিচিত,প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও বহুমুখী কার্যক্রম

দারুল উলূম দেওবন্দঃ পরিচিত,প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও বহুমুখী কার্যক্রম

Advertisements In Feed
Advertisements

দারুল উলূম প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট :
ভারতবর্ষ তখন পরাধীন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির শাসনাধীন। উপমহাদেশের অঙ্গরাজ্যগুলির পারস্পরিক অন্তর্কলহের এবং ক্রমাগত তাদের হিংসা-বিদ্বেষের সুযোগে দ্রুতগতিতে এখানকার শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণ কুক্ষিগত করে ফেলেছে “ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি,” এবং তারই সূত্র ধরে তারা যেমন এখানকার কৃষি, বাণিজ্য এবং অর্থনীতির উপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করল, তেমনি এখানকার বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসী মানুষদের রাজ-শক্তির প্রবল পরাক্রম, কুট-কৌশল এবং আকর্ষণীয় প্রলােভনে ধর্মান্তরিত করতে লাগল। লােভাতুর এবং সুযােগসন্ধানী এক শ্রেণির মানুষ ব্রিটিশদের ধর্মগ্রহণ করতে শুরু করল উল্লেখযােগ্য সংখ্যায়। কিন্তু ব্রিটিশ তথা খ্রিস্টানদের আসল লক্ষ্য ছিল, ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী দরিদ্র-পীড়িত মুসলমানদের নানান পরিষেবা এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করে খ্রিস্টধর্মে আকৃষ্ট করে ধর্মান্তরিত করা। আধুনিক তথা পাশ্চাত্য শিক্ষা তেমন না থাকলেও এখানকার মুসলমানরা পূর্বসুরী আলিম-উলামা এবং নিষ্ঠাবান মহান মনীষীদের নিখাদ পরম্পরা অনুসরণে অভ্যস্থ ছিল। ফলে কুচক্রী ব্রিটিশরাজের লক্ষ্যপূরণ হচ্ছিল না কোনওভাবেই। তাই তারা অন্য পন্থা অবলম্বন করল। ইংল্যান্ড-সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের খ্রিস্টধর্মের ধর্মপণ্ডিতদের আমদানি করে সভা-সমিতি এবং খ্রিস্টান-মিশনারি প্রােগ্রামের মাধ্যমে বেছে বেছে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ধর্মান্তকরণের কাজ শুরু করে দিল দুর্বার গতিতে। মুসলমানদের ধর্মাকাশে দেখা দিল অশনি সংকেত। শত দারিদ্র এবং কুসংস্কার সত্ত্বেও খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করার ব্যাপারে তাদের তেমন আগ্রহ না থাকলেও মিশনারীদের ধর্মপ্রচারের প্রবল তৎপরতার সামনে তারা কতক্ষণ অবিচল থাকতে পারবে, এ ব্যাপারে দূরদর্শী উলামা ও মনীষীবর্গ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন, এবং মিশনারীদের কর্মকাণ্ডে রাজশক্তির প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপােষকতায় চিন্তাশীল মনীষীদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা পরপর বৃদ্ধি পেতে লাগল। অতঃপর ঠাণ্ডা মাথায় তাঁরা উদ্ভূত সমস্যার প্রতিকারের সঠিক ও দীর্ঘমেয়াদী উপায় অন্বেষণ করতে লাগলেন। ইতিমধ্যে ব্রিটিশ সরকারের ইচ্ছাকে বাস্তবরূপ দিতে আসরে নামল শিক্ষাবিদ লর্ড মেকলে। ঘােষণা করল, এমন একটা শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা প্রবর্তন করতে চাই যার মাধ্যমে এখানকার মানুষরা রূপে-রঙে থাকবে ভারতীয়, কিন্তু চিন্তা-চেতনা বিশ্বাসে তারা হবে ব্রিটিশ তথা খ্রিস্টান। অর্থাৎ ধর্মীয়করণের নতুন কৌশল। শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ভারতীয়দের মগজ ধােলাই। এক কথায় উপমহাদেশে নিজ কর্তৃত্ব অর্জন করতে এবং ইসলামের অগ্রগামিতা রুখে দিতে ও ব্রিটেনের শিক্ষা-সংস্কৃতি প্রয়ােগ করে ভারতীয় সভ্যতা এবং ইসলামের কৃষ্টি-কালচার বিলীন করতে হয়ে উঠেছিল বদ্ধপরিকর।

অষ্টাদশ শতাব্দীর ষাটের দশকে মহাবিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার পর ইংরেজদের রােষানলের শিকার হলো মুসলিম জাতি। তারা সংগ্রামের নায়ক ও ধারক-বাহক উলামা সমাজকে নির্মমভাবে হত্যা করতে লাগল। এই নির্মম হত্যাযজ্ঞের ফলে মুসলিম সমাজ যখন উলামাশূন্য হয়ে হতাশাগ্রস্থ ও হীনমন্যতার শিকার হয়ে ভাবতে শুরু করেছিল যে, এখানেও স্পেনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না তো? এমনই এক দুর্যোগময় মুহূর্তে সশস্ত্র সংগ্রামের রণকৌশল বদলে সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ বিরোধী আন্দোলনের উচ্চ চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও দ্বীনি ভাবনায় অনুপ্রাণিত ও আত্মোৎসর্গকারী এক সুশীল সমাজ বিনির্মাণের মহান উদ্দেশ্যে হজরত মাও. কাসিম নানোতওয়ী, মাও. জুলফিকার আলি, মাও. রফিউদ্দিন উসমানি, হাজী আবিদ হুসাইন ও মাও. ইয়াকুব নানোতওয়ী (রহ.) -দের ন্যায় সত্যান্বেষী মহামানবগণ সমবেত হয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় একটি নির্ভেজাল ও নিষ্কলুষ দ্বীনি-শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে তােলা। এই সিদ্ধান্তের পরেই স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে মহানবী (স.) -এঁর স্বপ্নাদেশপ্রাপ্ত হয়ে এই মহামানবগণ যেন তাঁদের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের স্বীকৃতি পেয়ে গেলেন। অতঃপর হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মাক্কি(রহ.)-এঁর ইঙ্গিতে মাও. কাসিম নানোতওয়ী (রহ.) এক অকল্পনীয় দক্ষতায় এই কাফিলার নেতৃত্ব দিলেন এবং লর্ড মেকলের পরিকল্পনার উত্তরে শান্ত-সমাহিত অথচ দৃঢ় চিত্তে ঘােষণা করলেন, “আমাদের শিক্ষা আন্দোলনের উদ্দেশ্য, এমন প্রজন্ম তৈরি করা যারা জাতি ও বর্ণগতভাবে হবে ভারতীয় এবং চিন্তা-চেতনা ও আদর্শে হবে খাঁটি মুসলিম।”
তিনি এই আন্দোলনের সূচনা করেন ৩১ মে, ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১৫ মুহাররম, ১২৮৩ হিজরি, বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক এক অখ্যাত গ্রামের প্রান্তদেশে অধুনা দারুল উলূম দেওবন্দ নামী ইসলামি শিক্ষার আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। প্রথমে এর নাম ছিল, ‘মাদ্রাসা ইসলামিয়া আরাবিয়া দেওবন্দ’।

বস্তুত দারুল উলূম শুধুমাত্র একটি দ্বীনি শিক্ষাকেন্দ্র নয়, বরং দারুল উলূম একটি আন্দোলন। কুরআন-হাদীস ও ইসলামি সাহিত্য-সংস্কৃতি, সমাজ-সভ্যতার অভিভাবক ও নীতি-নির্ধারক। ভারত-স্বাধীনের অন্যতম সৈনিক। উপমহাদেশে ইসলামি আদর্শ বাস্তবায়নের এক জাগরণ। ইসলামি চেতনার অগ্রগামী প্রচেষ্টার সুষ্ঠু বিকাশ। যুগ-সমস্যার সমাধানে নিরলস সংগ্রামী। নির্ভেজাল দ্বীনি-শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক দীক্ষার অপূর্ব মোহনা। সুশীল সমাজ গঠনের বিপ্লবী নায়ক। মৌলিক দিক বিচারে উলামায়ে দেওবন্দের অবদানকে নিম্নোক্ত ছ’টি ভাগে ভাগ করা যায়। (১) ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে তাঁদের অবদান। (২) ইসলামী জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান। (৩) রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান। (৪) সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান। (৫) ইসলাম প্রচার-প্রসারের ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান। (৬) বাতিল ও কুসংস্কার প্রতিরােধে তাঁদের অবদান।

দারুল উলূম দেওবন্দের কিছু উজ্জ্বল নক্ষত্র : শাইখুল হিন্দ হজরত মাও. মাহমুদুল হাসান, মাও. কাসিম নানোতওয়ী, মাও. আশরাফ আলী থানওয়ী, মাও. রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহি, মাও. আনোয়ার শাহ কাশ্মিরি, শাইখুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানি, মাও. ওবাইদুল্লাহ সিন্ধি, মাও. শাব্বির আহমাদ উসমানি, আল্লামা ইব্রাহীম বালিয়াওয়ী, মাও: হাবীবুর রহমান উসমানি, কারী তাইয়িব সাহেব, মাও. ইলিয়াস কান্ধলভি, সাইয়িদ আতাউল্লাহ শাহ বুখারি, মুফতী কিফায়াতুল্লাহ দেহলভি, মাও: আস’আদ মাদানি, মাও. মারগুবুর রহমান (রহ:) প্রমুখ।

পরিকাঠামো : এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ এই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি পরামর্শ কমিটির (Administrative Council) বার্ষিক দু’বার পরামর্শ সভায় দারুল উলূম দেওবন্দের সূচনালগ্নে তৈরি “উসুলে হাশতগানা” (অষ্ট ধারা) ও উপধারার পরিসরে থেকে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্তকে পুরাে এক বছরের কর্মকাণ্ডের রূপরেখা বিবেচিত হয় এবং তা বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয় পূর্বনির্ধারিত বিচক্ষণ, নিষ্ঠাবান, দূরদর্শী আচার্য ও দুই উপাচার্যের উপর। অনুরূপ একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি (Management Council) ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পঠন-পাঠনকে সঠিক দিশা দেওয়ার জন্য একটি অতিব সক্রিয় “শিক্ষা বোর্ড” (Education Board) বর্তমান। এই বাের্ডের পরিচালকের ভূমিকা পালন করে থাকেন শিক্ষা-সচিব (Education Secretary), যিনি পরামর্শ কমিটি দ্বারা নির্বাচিত হয়ে থাকেন। উপরোল্লেখিত দু’টি বিভাগ দ্বারা পরিচালিত দারুল উলূমের উল্লেখযোগ্য বিভাগগুলো হলো : (১) শিক্ষা বিভাগ (২) শাইখুল হিন্দ অ্যাকাডেমি (৩) ফতোয়া বিভাগ। (৪) খতমে নবুয়াত বিভাগ (৫) সুন্নাতে নবওয়ী সংরক্ষণ বিভাগ (৬) খ্রিস্টবাদ খন্ডন বিভাগ (৭) গবেষণামূলক তাত্ত্বিক পর্যালোচনা বিভাগ (৮) ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন বিভাগ (৯) গ্রন্থাগার বিভাগ (১০) মুদ্রণ ও ছাপা বিভাগ। (১১) তথ্য সংরক্ষণ বিভাগ (১২) কম্পিউটার বিভাগ (১৩) ইন্টারনেট ও যােগাযােগ বিভাগ (১৪) স্থাপত্য ও নির্মাণ বিভাগ (১৫) ছাত্রাবাস বিভাগ (১৬) ওয়াকফ সম্পত্তি তত্ত্বাবধায়ক বিভাগ (১৭) হিসাব-নিকাশ বিভাগ (১৮) রন্ধনশালা বিভাগ (১৯) হস্তশিল্প বিভাগ (২০) ক্যালিওগ্রাফি বিভাগ (২১) অতিথিশালা বিভাগ (২২) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও উদ্যান বিভাগ (২৩) আমদানি-রপ্তানি ও সঞ্চয় বিভাগ (২৪) মাসিক পত্রিকা প্রকাশনা বিভাগ (আরবি) (২৫) মাসিক পত্রিকা প্রকাশনা বিভাগ (উর্দু) (২৬) সর্বভারতীয় মাদ্রাসা সমন্বয় বিভাগ (২৭) ফতোয়া বিন্যাস বিভাগ। (২৮) দাওয়াত ও তাবলিগ বিভাগ (২৯) চিকিৎসা বিভাগ (৩০) মিডিয়া বিভাগ

দারুল উলূম দেওবন্দের পাঠ্যক্রম : দারুল উলূমের পাঠ্যক্রম দরসে নিজামি সিলেবাসের অনুকরণে পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে ছাত্রদের কুরআন, হাদীস, আকাইদ, ফিকহ শাস্ত্র, দর্শন শাস্ত্র, অলঙ্কার শাস্ত্র,ইতিহাস, ফারায়েজ-হিসাব, আরবি, উর্দু, ফারসি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী করে তোলা হয়।

শিক্ষা বিভাগের তত্ত্বাবধানে নিম্নলিখিত উপবিভাগসমূহ বিদ্যমান :
১. উর্দু ও ফারসি বিভাগ (প্রাথমিক স্তর) ২. হিফজ বিভাগ ৩. আরবি প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি (মাধ্যমিক স্তর) ৪. আরবি পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি (উচ্চস্তর) ৫. আরবি সাহিত্য স্নাতকোত্তর বিভাগ ৬. উচ্চতর আরবি সাহিত্য স্নাতকোত্তর বিভাগ ৭. হাদীস শাস্ত্র স্নাতকোত্তর বিভাগ ৮. ফিকহ ও ফতোয়া প্রশিক্ষণ বিভাগ ৯. উচ্চতর ফতোয়া প্রশিক্ষণ বিভাগ ১০. তাফসীর স্নাতকোত্তর বিভাগ ১১. যুক্তি ও বিজ্ঞান বিভাগ (‘তাকমীলে উলূম’) ১২. হস্তলিপি বিভাগ ১৩. ইংরেজি সাহিত্য ও স্পোকেন ইংলিশ বিভাগ ১৪. কম্পিউটার প্রশিক্ষণ বিভাগ।

দারুল উলূমের চিত্তাকর্ষক ক্যাম্পাস : দারুল উলূমের মূল ক্যাম্পাস মহানবী (স.) -এঁর স্বপ্নাদেশপ্রাপ্ত স্থানে তৈরি চারিদিকে ন’টি দরজা ও বিরাট গম্বুজ বিশিষ্ট লাল রঙের বিল্ডিং। একে কেন্দ্র করেই প্রায় দুই বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে একে একে বিভিন্ন ছাত্রাবাস, লাইব্রেরি, শ্রেণিকক্ষ, মসজিদ, কোয়ার্টার ইত্যাদি তৈরি হয়েছে।

শাইখুল হিন্দ লাইব্রেরি : যে কোনও শিক্ষাকেন্দ্রের জন্য গ্রন্থাগার একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এই সূত্রে দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এ বিষয়ে বিশেষ লক্ষ দিয়ে এসেছে। ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত লাইব্রেরিতে ২৫ টি ভাষায় শতাধিক বিষয়ের উপর দু’ লক্ষের অধিক পুস্তক বিদ্যমান। বর্তমানে পুরাতন লাইব্রেরি দু’ লক্ষ পঁচাত্তর হাজার স্কোয়ারফিট আয়তনে সাততলা বিশিষ্ট নবনির্মিত ভবনে স্থানান্তরিত হবে। লাইব্রেরির মূল বিশেষত্ব হলো, এর বহু পুস্তক হাতে লিখিত দুর্লভ শ্রেণির যেগুলো এই মুহূর্তে পৃথিবীর অন্য কোনও লাইব্রেরিতে পাওয়া সম্ভব নয়। শুধুমাত্র এগুলোর নাম ও পরিচয় দুটি মোটা গ্রন্থের আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন বিষয়ের গবেষকদের জন্য এগুলি চরম উপযোগী।

মসজিদে রশীদ : দারুল উলুমের বর্তমান তিনটি মসজিদের অন্যতম ও অতি সুন্দর চিত্তাকর্ষক মসজিদ “মসজিদে রশীদ”। শ্বেত পাথরের কারুকার্য খচিত এই মসজিদ দর্শনার্থীদের নজর কেড়ে নেয়। তিনতলা বিশিষ্ট এই মসজিদে ১৪-১৫ হাজার মানুষ একসাথে নামাজ পড়তে পারে। অন্য দু’টি মসজিদের মধ্যে একটি হলাে, দারুল উলূমের প্রথম শ্রেণিকক্ষ ঐতিহাসিক ছাত্তা মসজিদ এবং দ্বিতীয়টি ক্বদীম মসজিদ। এছাড়াও বর্তমানে সাতষট্টি হাজার চারশ’ স্কোয়ারফিট বিশিষ্ট জি টি রোডের ধারে নতুন একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা পাশ করা হয়েছে।

এছাড়াও উল্লেখযোগ্য বিল্ডিংসমূহের মধ্যে আছে মনোরম অতিথি নিবাস, একাধিক ছাত্রাবাস; যেমন দারে জাদীদ, রোয়াকে খালিদ, শাইখুল ইসলাম মঞ্জিল, শাইখুল হিন্দ মঞ্জিল, হাকীমুল উম্মাত মঞ্জিল, আফ্রিকি মঞ্জিল, শিক্ষক নিবাস (পুরাতন ও নতুন), প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ বিল্ডিং, নতুন শ্রেণিকক্ষ বিল্ডিং ইত্যাদি।

নবী (স.)-এঁর জুব্বা স্পর্শধন্য রুমাল : আব্বাসি খিলাফতকালে মুসলিম বিশ্বের প্রাণকেন্দ্র তুর্কিস্তানে নবী(স.) -এঁর জুব্বা, তলোয়ার ইত্যাদি নানা নিদর্শন সরকারি যাদুঘরে সংরক্ষিত ছিল। জুব্বা মুবারক রুমালাকারের একখানা কাপড় দ্বারা আবৃত থাকত। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজদের সঙ্গে তুরস্কের বলকান যুদ্ধে তুর্কি সরকারের বিপর্যয় ঘটে। ঐ সময় দারুল উলূম দেশব্যাপী চাঁদার মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকার মােটা অর্থ সংগ্রহ করে তুর্কি সরকারকে প্রেরণ করে। তুর্কির তৎকালীন খলিফা মুহাম্মাদ দারুল উলূমের এই অযাচিত সাহায্যে খুশি হয়ে মহানবীর (স.) জুব্বা আবৃত রুমালটি উপটৌকন স্বরূপ দারুল উলূমে প্রেরণ করেন। বর্তমানে সেটি অ্যাকাউন্ট অফিসে কাঁচের একটি বাক্সে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা আছে।

দারুল উলূম দেওবন্দের বর্তমান পরিচালনা কমিটি :
(১) মুফতী আবুল কাসিম নুমা’নী (বেনারস) (বর্তমান চ্যান্সেলর ও শাইখুল হাদিস) (২) মাওলানা আরশাদ মাদানী প্রধান শিক্ষক) (৩) মাও. বদরুদ্দিন আজমল। (এম.পি, অসম) (৪) মুফতী ইসমাঈল (মালেগাঁও) (৫) মুফতী ইশতিয়াক (বিহার) (৬) মাও. ইবরাহীম (চেন্নাই) (৭)মুফতী আহমাদ খানপুরি (গুজরাট) (৮) মাও. আব্দুল আলীম ফারুকী (লখনউ) (৯) মাও. গুলাম আহমাদ বুস্তানবি (গুজরাট) (১০) হাকিম কালীমুল্লাহ (আলিগড়) (১১) মাও. রহমাতুল্লাহ (কাশ্মির) (১২) মাও. আনওয়ার (বিজনোর) (১৩) মাও. আব্দুস সামাদ(পশ্চিমবঙ্গ) (১৪) মাওলানা মাহমুদ হাসান (রাজস্থান) (১৫) মাওলানা নিজামুদ্দিন খামোশ (মুম্বই) (১৬) মাওলানা সাইয়িদ আনজার হুসাইন মিয়াঁ (দেওবন্দ) দামাত বারাকাতুহুমুল আলিয়াহ্।

লেখা : মুহা. আস’আদ কাসিমি

Rashid Qasimi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top