Home » ফিতরার গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল।

ফিতরার গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল।

Advertisements In Feed
Advertisements

আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতরের সুবেহ সাদিকের পর নিসাবের মালিক ব্যক্তিদের উপর সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। আর শরীয়তের আলোকে সেই ফিতরা আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। রয়েছে নজরকাড়া ফজিলতও। মহানবী সাঃ এর অসংখ্য হাদিস ফিতরা আদায়ের গুরুত্বের জানান দেয়। আমাদের অনেকেই সদকায়ে ফিতর আদায় করে থাকেন। কিন্তু আদায়কালে বিভিন্ন মাসায়েলের মুখোমুখি হন। অথচ এসবের সমাধান খোঁজে পান না সহজে । সেই প্রয়োজনীয়তা সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ এই এবাদত সংক্রান্ত কিছু মাসায়েল নীচে তুলে ধরলাম।
১.রমজানের আগে সদকায়ে ফিতর দেওয়া জায়েজ নয়। (ফতোয়ায় তাতারখানিয়া )
২.একটি সদকায়ে ফিতর কয়েকজনের মধ্যে বন্টন করা জায়েজ। (ফতোয়ায় শামি)
৩.একটি ফিতরা একজনকে দেওয়া উত্তম।( দর্রুল মুখতার)
৪. মাতা-পিতা, ঠাকুরদা-ঠাকুরদী, নানা-নানী, ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি এবং দৌহিত্র-দৌহিত্রিকে সদকায়ে ফিতর দেওয়া জায়েজ নয়। ( বাদাইয়ুস সানায়ে)

৫. আত্মীয়দের মধ্যে ভাই-বোন,মামা-মাসি,কাকু পিসি এবং তাদের সন্তান সন্ততিকে সদকায়ে ফিতর দেওয়া জায়েজ এবং উত্তম। (বাদাইয়ুস সানায়ে)
৬. স্বামী স্ত্রী একে অপরকে ফিতরা দেওয়া জায়েজ নয়। (বাদাইয়ুস সানায়ে)
৭.বিত্তবান মহিলার উপর নিজের সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। তার উপর ছেলেমেয়ে বা অন্য কোন আত্মীয়ের ফিতর ওয়াজিব নয়। (ফতোয়ায় হিন্দিয়া)
৮.স্বামীর উপর স্ত্রীর সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। কিন্তু আমাদের সমাজে স্ত্রীর ফিতরা স্বামী আদায় করেন।
৯.পিতার উপর নাবালক ছেলে মেয়েদের পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। (আলমগীরি)
১০. ফিতরার টাকা মসজিদ মাদ্রাসা ঈদগাহ বা অন্য কোথাও খরছ করা জায়েজ নয়। (ফতোয়ায় শামি)
১১.নিসাবের মালিক ব্যক্তি যদি কোন কারণবশত রোজা পালন না করেন, তবুও তার উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব।( রদ্দুল মুহতার)

১২. যে বাচ্চা ঈদের দিন সুবেহ সাদিকের সময় বা এর আগে জন্ম গ্রহণ করেছে। তার পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করা পিতার উপর ওয়াজিব।( হিন্দিয়া)
১৩.যে বাচ্চা ঈদের দিন সুবেহ সাদিকের পর জন্ম লাভ করেছে তার উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব নয়। (আলমগীরি)
১৪.যে ব্যক্তি ঈদের দিন সুবেহ সাদিকের আগে মৃত্যূবরণ করেছে, তার উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব নয়। (আলমগীরি)
১৫.প্রবাসীদের জন্য নিজের এবং নাবালক ছেলে মেয়েদের সদকায়ে ফিতর প্রবাসের বস্তুর মূল্য অনুযায়ী আদায় করা ওয়াজিব। তবে ফিতরার অর্থ দেশে বা প্রবাসে আদায় করতে পারবেন। (রুদ্দুল মুহতার)
১৬, কোন ব্যক্তি যদি বিনা নিয়তে কাউকে কোন কিছু প্রদান করে এবং পরে সদকায়ে ফিতরের নিয়ত করে। তাহলে সদকায়ে ফিতর আদায় হবে না। (ফতোয়ায় হিন্দিয়া)
১৭.ফিতরায় টাকার পরিবর্তে ঐ পরিমাণের কাপড় দেয়া জায়েয। (ফতোয়ায় শামি)
১৮. ঈদের নামাজের পর সদকায়ে ফিতর দেওয়া মাকরূহ।
১৯. ঈদের নামাজের পূর্বে আদায় করা মুস্তাহাব।
২০. পাগল ব্যক্তি নিসাবের মালিক হলে তার পক্ষ থেকে অভিভাবকদের উপর সদকায়ে ফিতর দেওয়া ওয়াজিব। (দুর্রুল মুখতার)

মুফতি রশিদ আহমদ কাসিমী,
উপাধ্যক্ষ দারুল উলুম বদরপুর।

Rashid Qasimi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top