Home » বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল এর প্রতি খোলা চিঠি।

বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল এর প্রতি খোলা চিঠি।

Advertisements In Feed
Advertisements

এই তো ক’দিন আগে প্রকাশিত হয়ে গেল বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। ফলাফলে দুই নম্বর পাথারকান্দি আসন থেকে দ্বিতীয় বারের মতো বাজিমাত করেছেন আপনি। যেটা সত্যিই একটা ইতিহাস। এই প্রথম কোন বিধায়ক দুই নম্বর পাথারকান্দি আসন থেকে লাগাতার জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। এ সৌভাগ্য সত্যিই সাত পুরুষের ভাগ্য। এজন্য আপনাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

এবারের নির্বাচনে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই আপনাকে ভোট দিয়েছেন হৃদয়-মন উজাড় করে। সংখ্যালঘু মুসলিম এলাকায় ভোট পেয়েছেন বিরাট সংখ্যায়। প্রায় সবকটি সংখ্যালঘু বুথে আপনি পঞ্চাশের কোঠা পার করেছেন। কোনও কোনও মুসলিম কেন্দ্রে আপনার ভোট তৃতীয় সংখ্যা ছুঁয়েছে। আর এটাই আপনার হ্যাটটিকের দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এনে দিয়েছে মর্যাদাপূর্ণ বিজয়।

ভোট আসলে বিভিন্ন ভোটার বিভিন্ন প্রার্থীকে চয়ন করেন। একেকজনের পছন্দ থাকে একের প্রার্থী। একেক দল। কিন্তু ভোট শেষে একজনই নির্বাচিত হন। জয়ের মালা পরেন। আর তিনিই হন বিধায়ক বা সাংসদ । ভোট যার যার বিধায়ক,সাংসদ সবার; যারা ভোট দিয়েছেন তাদের। আর যারা ভোট দেননি তাদেরও। বিরোধী এবং সমর্থক উভয়ের বিধায়ক বা সাংসদ। এটাই গণতন্ত্রের স্বাদ ও সুন্দর্য। মাননীয় কৃষ্ণেন্দু পাল মহাশয়! আপনি গোটা পাথারকান্দিবাসীর বিধায়ক। যেমন মোদীজী সারা দেশের দেড়শো কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী। আপনার দায়িত্ব সবাইকে সমান চোখে দেখা। সবার উন্নয়নে তৎপর হওয়া। জাতি ধর্ম বর্ণ দল মত নির্বিশেষে সবার ডাকে সাড়া দেওয়া। আর সৌভাগ্যক্রমে এটাই আপনার দলের নীতি সবকা সাথ সবকা বিকাশ সবকা বিশ্বাস। আমার দৃঢ় বিশ্বাস,দলের এই নীতিতে বিশ্বাস রেখে রাজধর্ম পালন করে আপনি জাতি ধর্ম বর্ণ দল মত নির্বিশেষে গোটা পাথারকান্দিবাসির উন্নয়নে তৎপর হবেন। সবার দুঃখে সুখে এগিয়ে আসবেন। যারা ভোটে বিরোধিতা করেছেন, তাদের উন্নয়নে সচেষ্ট হয়ে, তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আপনি হয়ে উঠবেন সবার প্রিয় নেতা। অবিসংবাদিত নেতা।

মাননীয় বিধায়ক! পাথারকান্দির আমজনতা আপনাকে ইতিহাস রচনার সুযোগ দিয়েছে। এজন্য আপনি গোটা পাথারকান্দিবাসীর কাছে ঋণি। এই ঋণ পরিশোধ করতে আপনি আগামী দিনে পাথারকান্দিকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবেন। হয়ে যাবেন সবার চোখের মণি। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিজেপি দলের নেতা কর্মীরা সংখ্যালঘু ভোট কম পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন। বিভিন্ন বাঁকা মন্তব্য করেছেন। সংখ্যালঘুর উন্নয়ন নিয়ে অন্য ভাবনার কথা বলেছেন। রাজ্য নেতৃত্ব একধাপ এগিয়ে সংখ্যালঘু বোর্ড ভেঙে দিয়েছে। তবে আপনি এ বিষয়ে ছিলেন নিরব। এর মূলে সংখ্যালঘু সমর্থন। পাথারকান্দির সংখ্যালঘুরা আপনাকে আশাহত করেনি। আশাকরি আগামী দিনে আপনিও তাদেরকে নিরাশ করবেন না। নিরবে নিভৃতে সবার কাজ করে যাবেন।

পাথারকান্দিকে মহকুমায় উন্নীত করা হয়েছে, ক’বছর হয়ে গেল। কিন্তু এই উন্নতীকরণ রয়ে গেল কাগজের পাতায়। বাস্তবে নিটফল শূন্যই থেকে গেল। আর আমরা আজও মহকুমার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রইলাম। পাথারকান্দির বৃহত্তর স্বার্থে মহকুমা বাস্তবায়নে আপনি সোচ্চার হবেন দিশপুরে। শাসক দলের বিধায়ক হওয়ার সুবাদে আমাদের এ অধিকার ছিনিয়ে আনবেন সহজে। এতে পাথারকান্দির উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবেন। আর আপনি জায়গা করে নেবেন পাথারকান্দির মানুষের হৃদয়ে। বেঁচে থাকবেন ইতিহাসের পাতায়।

বিধায়ক সাহেব। মেন্দবাড়ি সেতু সম্পর্কে আপনি নিশ্চয়ই ওয়াকিবহাল আছেন। পশ্চিম পাথারকান্দি বাসীর জন্য সেতুটি কতটা প্রয়োজন তাও আপনার ভালোই জানা। হাজার হাজার মানুষের আশা প্রত্যাশার এই সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল তৃতীয় তরুণ গগৈ সরকারের শেষাংশে। কিন্তু আজ অবধি অসম্পুর্ণই থেকে গেল। দুই তিনটি জিপির গণমানুষের জীবন তূল্য এই সেতুটি পূর্ণাঙ্গ রূপে দাঁড়াতে পারেনি। কবে দাঁড়াবে কেউ যানে না। দুটি খুঁটি হাজার হাজার মানুষের আশা প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বছরের পর বছর ধরে। একই সময়ে এই লঙ্গাইয়ের উপর শিলান্যাস হওয়া অন্যান্য সেতু আপনারই বদান্যতায় আজ স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। সেসব এলাকার মানুষ আজ নদী পার করছে হাসতে হাসতে। আর আমরা? আমাদের ভরসা শুকনো মরশুমে সেই সাঁকো। আর বর্ষায় নৌকা। আমরা আজও আছি মেন্দিবাড়ি সেতুর অপেক্ষায়। আমাদের স্বপ্নের সেতুটি কতদিন এভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে জানি না। কবে হবে আমাদের স্বপ্ন পূরণ তাও আমরা জানি না। তবে আশাকরি আপনার দ্বিতীয় আমলে মেন্দিবাড়ি সেতু পূর্ণাঙ্গ রূপে দাঁড়াতে পারে। হাজার হাজার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আপনার একটু প্রচেষ্টা চাই। চাই একটু সদিচ্ছা।

মুফতি রশিদ আহমদ কাসিমী
পুরান চান্দপুর,পাথারকান্দি।

Rashid Qasimi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top