Home » ভাষা আন্দোলনে মওলানা আব্দুল জলীল চৌধুরী

ভাষা আন্দোলনে মওলানা আব্দুল জলীল চৌধুরী

Advertisements In Feed
Advertisements

ভাষা আন্দোলন বরাকের ঐতিহাসিক গণ আন্দোলন। সার্থক ও সফল আন্দোলন। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে বরাকের সর্বস্তরের মানুষ এ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ঐতিহাসিক এই ভাষা আন্দোলনকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে যে ক’জন বিপ্লবী নেতা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছিলেন, তাঁদের অন্যতম মাতৃভাষাপ্রেমী,লৌহমানব মওলানা আব্দুল জলীল চৌধুরী সাহেব । মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় তাঁর দান-অবদান চোখ ধাঁধানো। তাঁর ত্যাগ-তিতিক্ষা অবিস্মরণীয়।

১০ ডিসেম্বর ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ। তৎকালীন আসামের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিমলা প্রসাদ চলিহা বিধানসভায় আসাম সরকারী ভাষাবিল পেশ করেছিলেন। ভাষা বিলে অসমীয়া ভাষাকে একমাত্র সরকারি ভাষার মার্যাদা প্রদান করা হয়েছিল। ২৪ ডিসেম্বর ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে ভাষা বিল পাশ হয়। এদিন ভাষা বিলের প্রতিবাদ করে ‌উপজাতি ও বরাকের বিধায়কগণ সদন ত্যাগ করেন। প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও ১৭ ডিসেম্বর সরকারি ভাষা বিলে শিলমোহর দেন রাজ্যপাল। এতে বিলটি আইনে রূপান্তরিত হয়।

ভাষা আইন অসমীয়া ভাষাকে আসামের একমাত্র সরকারী ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে ‌। যেটা আসামের বাঙালীদের ভাবাবেগে চরম আঘাত হানে । এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠে বরাক উপত্যকা। উপত্যকার কংগ্রেস সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল একজোট হয়ে এর বিরোধিতা শুরু করে । সঙ্গ দেয় অন্যান্য সামাজিক সংগঠনও। আন্দোলনকে আরও জোরদার বেগবান এবং ধারাবাহিক করতে গঠিত হয় কাছাড় সংগ্রাম পরিষদ। ১৫ জানুয়ারী ১৯৬১ সালে।পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন তরুণ এডভোকেট আব্দুর রাহমান চৌধুরী । সংগ্রাম কমিটি বাংলা ভাষার স্বীকৃতি আদায়ের জন্য জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলে বরাকের শহরে শহরে। গ্রামে গ্রামে। অপরদিকে অবস্থা বেগতিক দেখে সরকার আন্দোলনকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র করে। আসাম সরকার কতিপয় স্বার্থান্বেষী মানুষকে মাঠে নামায়। তারা বিভিন্ন কৌশলে আমজনতাকে আন্দোলন থেকে দূরে ঠেলতে থাকে । চালাতে থাকে গ্রাম-শহরে, অলিতে-গলিতে অপপ্রচার । দেখাতে থাকে অহেতুক ভয়-ভীতি । গ্রামাঞ্চলের সরলমনা মানুষ এই দুষ্টচক্রের অপপ্রচারে প্রভাবিত হয়। এবং অসমীয়া ভাষার পক্ষে সওয়াল করে । আন্দোলন স্তব্ধ হওয়ার উপক্রম। এমন বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব প্রদানে এগিয়ে আসেন জননেতা আব্দুল জলীল চৌধুরী । মানুষদের আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করতে তিনি উপত্যকার প্রান্তে প্রান্তে চষে বেড়ান। করেন সভা-সমিতি । রাখেন জ্বালাময়ী ভাষণ। তাঁর যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যে দিশেহারা মানুষের ভ্রান্ত ধারণা বিদূরিত হয় । মাওলানা গণিরগ্রাম জে, আর হাইয়ার সেকেণ্ডারী স্কুলে এক প্রতিবাদী সভায় মাতৃভাষা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, আমি মাত্র আপনাদের কাছে একটা কথা জানতে চাই “আপনারা কাহারা নিজের মাকে ভুলিতে পারিবেন ? ” তখন সকলে এক বাক্যে বলিলেন তা কখনো হতে পারে না । তিনি লোকজনের আওয়াজ শুনে বলিলেন, ”তাহা হইলে আমি আব্দুল জলীল সরকারের একজন হওয়া সত্বেও বলিতেছি যে আমরা বাংলাবাসী লোক ,আমাদের মায়ের ভাষা বাংলা ,আমি এক মুহূর্তের জন্য আমার মায়ের মুখ বন্ধ করিতে চাই না।” তখন উপস্থিত সবাই বলে উঠলেন “চাই না, চাই না ”। তাঁর এদিনের আবেগমথিত ভাষণ ভাষা আন্দোলনের পালে হাওয়া তুলেছিল। এরপর গোটা পশ্চিম কাছাড় অঞ্চলে ভাজোরদমে আন্দোলন শুরু হয়েছিল ।

মাওলানা আব্দুল জলিল চৌধুরী সভা-সমিতি করতে অনেক বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছেন। আক্রান্ত হয়েছেন অনেকবার । তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে ইট পাটকেল বর্ষণ করা হয়েছে একাধিকবার । প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বারবার । কিন্তু তিনি তো আর দমবার পাত্র নন। বাঁধার পাহাড় মাড়িয়ে কিভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয় সেটা তাঁর ভালোই জানা ছিল। শালচাপড়ার এক সভা থেকে আসার পথে প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়েছিলেন । তারপরও বিচলিত হননি ।এক ইঞ্চিও পিছু হটেন নি এ বীর যোদ্ধা । বরং পুরোদমে চালাতে থাকেন সভা-সমিতি, আন্দোলন ।

১৯৬১ সালের ১৮ মে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হাজার হাজার ছাত্র রাস্তায় নেমে মিছিল করেছিল। এদিন গভীর রাতে ছাত্র নেতা নীশিত রঞ্জন দাস, সংগ্রাম পরিষদের সম্পাদক নলীনিকান্ত দাস ও জননেতা রথীন্দ্রনাথ সেনকে গ্রেফতার করে শিলচর জেলে বন্দি করা হয়েছিল। তাদের মুক্তি নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন মাওলানা চৌধুরী। তাঁর রণকৌশলে কাছাড় কংগ্রেস বাধ্য করেছিল ১৯৬১ সালের ১৭ জুন ভাষা সত্যাগ্রহীদের মুক্তি দিতে। ।

নিজের দলীয় সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়া সত্যিই এক অভূতপূর্ব ঘটনা। দলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ভাষার অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার যারা দুঃসাহসী ছিলেন তাঁদের অন্যতম মাওলানা আব্দুল জলিল চৌধুরী। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় তিনি নিজের দলের বিরুদ্ধে তীব্র সংগ্রাম করেছেন।

মাতৃভাষা প্রেমে উজ্জীবিত হয়ে ১৯৬১ সালের ১৯ মে শিলচর রেল স্টেশনে প্রাণ বিসর্জন দেন ১১ জন ভাষা সেনানী। কিন্তু এ বীর শহিদদের নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রী জওহরলাল নেহেরুর প্রতিক্রিয়া ছিল সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। পুলিশ এগারোটি তরতাজা প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল । এবিষয়ে দুঃখ ৎপ্রকাশ তো দূরের কথা উল্টো বাঁকা বাক্য উচ্চারণ করে বললেন , “যারা রেল ষ্টেশনে অগ্নিসংযোগ করে তাদের পুলিশ গুলি করবে না তো পুষ্প বর্ষণ করবে না কি !” তাঁর এ মন্তব্যে তোলপাড় হল গোটা উপত্যকা । মানুষ আরও আন্দোলনমুখী হয়ে উঠল।

এদিকে আসাম সরকার শান্তি পরিষদ গঠন করল। শান্তি পরিষদ ও প্রশাসনের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে ভাষা আন্দোলনকে অন্য মোড় দিতে চাইলো ‌। মওলানা জলীল সাহেব শান্তি পরিষদের মুখোশ উন্মোচন করলেন। সরকারের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আমজনতাকে ওয়াকিবহাল করলেন।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টা বরাকের ইতিহাসে জাজ্বল্যমান থাকবে । তিনি বলেছিলেন ,”ভাই সকল,আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে যারা চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন, আমাদের এই আন্দোলন অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলন । ” তিনি উদ্বাত্ত কন্ঠে বলেছিলেন ,”ভাষিক সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা কোন শক্তির নাই । ” তাঁর অগ্নিগর্ভ ভাষণে বরাক উপত্যকায় সৃষ্টি হয়েছিল এক সাম্প্রদায়িকতামুক্ত আন্দোলন । তাঁর এ মন্ত্রে দীক্ষিত হন জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল বাঙালী । তাঁর নিষ্ঠাপূর্ণ প্রচেষ্টায় সরকারের চক্রান্তের ধূম্রজাল ছিন্ন হয়েছিল।

এদিকে আন্দোলন চলছিল গোটা উপত্যকা জুড়ে। সংগ্রামের অপ্রতিরোধ্য গতিবেগ কেন্দ্র সরকারের টনক নাড়িয়ে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীকে ভাষা আন্দোলনের কারণ ও মূল্যায়নের জন্য শিলচর পাঠান। শাস্ত্রীজি অবস্থা পর্যবেক্ষন করলেন। ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্বের সাথে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মত বিনিময়ের উদ্দেশ্যে তিন সদস্যের এক প্রতিনিধিদলকে দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানালেন। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে মত বিনিময়ের উদ্দ্যেশ্যে যাত্রা করে তিন সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল। এতে ছিলেন আসামের প্রাক্তন মন্ত্রী মরহুম আলতাফ হুসেন মজুমদার‌, মওলানা আব্দুল জলীল চৌধুরী ও করিমগঞ্জের রথীন্দ্রনাথ সেন । প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর দরবারে হাজির হল । তখন প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভে অগ্নী শর্মা হয়ে বলেন, আপনারাই বোধহয় কাছাড়ের ১১ জন বাঙালির খুনি ? একথা শোনা মাত্র সবাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলেন। কিন্তু একমাত্র ব্যতিক্রমী চরিত্র মওলানা আব্দুল জলীল চৌধুরী। তিনি, বললেন” শুধু ১১ জন কেন ? আমাদের সংগ্রামের নৈতিকতা বিচার করে আমাদের বাংলা ভাষার অধিকার না দিলে আসামের সমগ্র বাঙালি মানুষ প্রাণ দিতে বিচলিত হবে না । এরপর তাঁর স্বভাব সুলভ গাম্ভীর্যে‌ প্রাঞ্জল উর্দু ভাষায় উর্দু ভাষী প্রধানমন্ত্রীকে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট,গুলি চালনার রহস্য এবং চক্রান্তকারীদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য উপস্থাপন করলেন। তাছাড়া বাংলা ভাষাকে সরকার স্বীকৃতি প্রদান না করলে তার ভয়ংকর পরিণতি অবহিত করলেন। অবশেষে নেহেরুজি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার নির্দেশ দেন। শাস্ত্রীর সাথে আলোচনার পর দশ বছরের জন্য অসমীয়া ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষা চালু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং পুলিশের গুলিচালনার তদন্তের জন্য মেহেরাত্রা কমিশন গঠিত হয় ।

১৯৭২ সালে ১২ জুন গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মাধ্যম হবে একমাত্র অসমীয়া ভাষা এবং কেবলমাত্র দশ বছরের জন্য চালু থাকবে ইংরেজি ভাষা। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেড়ে নেয়া হয়েছিল ভাষিক সংখ্যালঘুদের মাতৃভাষার অধিকার। এতে আন্দোলন অনিবার্য হয়ে ওঠল। আবার জ্বলে উঠে বরাক । গর্জে উঠল বাঙালিরা । গঠন করা হল সংগ্রাম পরিষদ । এবার সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য মাওলানা আব্দুল জলিল চৌধুরীকে অনুরোধ জানালেন বরাক উপত্যকার সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দ । মাতৃভাষা প্রেমে উজ্জীবিত হয়ে সর্বদলীয় নেতৃত্বের অনুরোধে সাড়া দিয়ে সংগ্রাম পরিষদের সভাপতির গুরুদায়িত্ব গ্রহন করলেন। শাসক দলের বিধায়ক হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে পরিচালিত ভাষা আন্দোলনের সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ সত্যিই চূড়ান্ত সৎসাহসিকতার পরিচয় ।

মওলানা সাহেবের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পরিচালিত এ আন্দোলনে প্রায় দু-মাস সরকারি কাজকর্ম অচল হয়ে পড়ে । ইতিমধ্যে আসাম বাজেট অধিবেশন আরম্ভ হল । অন-অসমীয়া ছাত্রদের মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার হরণ করায় বরাক উপত্যকার মন্ত্রী বিধায়কগণকে বিধানসভা অধিবেশন বয়কট করার অনুরোধ জানানো হল সংগ্রাম পরিষদের তরফে। উপত্যকার বিধায়কগণ অধিবেশন বয়কটের কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু লোভ লালসার বশবর্তী হয়ে রাতের অন্ধকারে চুপিসারে অধিবেশনে যোগ দিলেন। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ভূমিকায় ছিলেন মওলানা চৌধুরী ও সরবরাহ মন্ত্রী মহীতোষ পুরকায়স্ত । তাঁরা অধিবেশন বয়কট করলেন। এতে তাদের উপর নেমে আসল শাস্তি। বাজেট অধিবেশন বয়কট করার জন্য মাওলানা আব্দুল জলিল চৌধুরী ও মন্ত্রী মহীতোষ পুরকায়স্থের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের অভিযোগে উত্থাপন করা হল। শ্রী পুরকায়স্থকের দফতর কেড়ে নিয়ে দফতর বিহীন মন্ত্রী করা হল । পরে তাঁকে মন্ত্রীসভা থেকে বাদ দেয়া হল।

দীর্ঘ সংগ্রামের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে‌ সি পন্থের আহ্বানে, মওলানা আব্দুল জলিল চৌধুরী সহ সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ শিলঙে গোল টেবিল বৈঠকে বসলেন। সেই গোল টেবিল বৈঠকেই ঐতিহাসিক ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যা “সিংহ -পন্থ -জলীল” চুক্তি নামে পরিচত । মওলানা আব্দুল জলীল চৌধুরী আন্দোলন পরিষদের সভাপতি হিসাবে, শরৎচন্দ্র সিংহ আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে সি পন্থ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন । এছাড়াও আরও দশজন সাংসদ ও বিধায়ক এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন । এই চুক্তির শর্তানুসারে মাধ্যমিক অবধি অসমীয়ার সঙ্গে বাংলা ভাষায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় । এই চুক্তির সুবাদে আজও বরাক উপত্যকার ছাত্র-ছাত্রী মাতৃভাষা বাংলায় লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে ।

বছর ঘুরে ফিরে আসে ১৯ মে। এদিন বরাক জুড়ে ভাষা শহিদ দিবস পালন করা হয় পালন । কলম সৈনিকেরা শহিদ দিবস নিয়ে কলম ধরেন। লিখেন নানা রকমের প্রবন্ধ, ছড়া, কবিতা,গল্প, রম্য রচনা। কিন্তু এসবে উপেক্ষিত থেকে যান ভাষা আন্দোলনের প্রাণপুরুষ মাওলানা আব্দুল জলিল চৌধুরী। যেটা সত্যিই পরিতাপের বিষয় । যাঁর নেতৃত্বে এই আন্দোলন গণ-আন্দোলনের রূপ নিয়েছিল। চুক্তিতে যিনি স্বাক্ষর করলেন তাঁকে স্মরণ না করাটা সত্যিই অকৃতজ্ঞতার পরিচয়। মাওলানা চৌধুরী সহ অন্যান্য ভাষা সৈনিকদের স্মরণ করা আবশ্যক।

মুফতি রশিদ আহমদ কাসিমী
উপাধ্যক্ষ দারুল উলুম বদরপুর।

Rashid Qasimi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top