Home » মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রতি খোলা চিঠি

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রতি খোলা চিঠি

Advertisements In Feed
Advertisements

গত দুসরা মে একুশের মহারণের ফলাফল প্রকাশ পেল। এতে মিত্রজোটের জয়জয়কার হল। ফলস্বরূপ মিত্রজোট সরকার গঠন করল। আর আপনি মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে আসীন হলেন। আসামের পঞ্চদশ মখ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী! আপনার দল আসামে মাটি সুরক্ষার স্লোগান দিয়ে আসছে। রাজ্যের মাটির সুরক্ষা আপনার সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। মসনদে বসার ক’দিন পর দেখা গেল শোনিতপুরে উচ্ছেদ অভিযান চালালেন। দখলমুক্ত করলেন সরকারী জমি। প্রতিশ্রুতি পালনে করোনার আবহে আপনার প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালালো। সেটাকে রাজ্যবাসী কোন চোখে দেখেছেন‌ বা মানবিকতার দৃষ্টিতে এটাকে কোন চোখে দেখা যাবে, সে এক আলাদা বিতর্ক। কোভিডের এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে আপনার রাজ্যের উচ্ছেদ হওয়া এইসব জনতা কোথায় ঠাঁই পাবে বা পেয়েছে, সেটা নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। তবে বলতে পারি, আর যাই হোক আপনি প্রতিশ্রুতি পালন করেছেন। রাজ্যের জমির সুরক্ষা প্রদান শুধু আপনার সরকার কেন যে কোনও সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। রাজ্যবাসীকে বর্হিরাজ্যের দখলদারদের আগ্রাসন থেকে সুরক্ষিত করা এবং সীমান্তের গণমানুষকে পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করা সরকারেরই দায়িত্ব। আর যেহেতু আপনার সরকার জমির সুরক্ষাকে এজেন্ডা হিসেবে গ্রহন করেছে, তাই এটার পূর্ণ সুরক্ষার দায়িত্ব আপনার সরকারের উপর কয়েকগুণ বেশি বর্তায়।

যোরহাট জেলার মরিয়ানির দিসৈ ভ্যালিতে নাগাল্যাণ্ড সরকারের মদতে এবং সেখানকার প্রশাসনের সাহায্যে জবরদখল চালাচ্ছিল নাগা আগ্রাসীরা। বিষয়টি সরজমিনে খতিয়ে দেখতে গত ২৮ মে মরিয়ানির কংগ্রেস বিধায়ক রূপজ্যোতি কুর্মী তাঁরই নির্বাচনী এলাকা দিসৈ ভ্যালিতে নাগাদের জবরদখলকৃত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি নাগা দখলদারদের প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়েছেন। এক পর্যায়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দখলদার বাহিনী। দৌড়াতে দৌড়াতে কোন রকম প্রাণে বেঁচে আসেন বিধায়ক মহোদয়। বিষয়টি নিয়ে গোটা রাজ্যবাসী স্তম্ভিত হয়েছেন। বড্ড দুঃখ পেয়েছেন। ভাবিয়ে তুলেছে আসামবাসীকে। যদি একজন জনপ্রতিনিধির এমন বেহাল অবস্থা হয়, তবে আমজনতা কতটা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। এ দুশ্চিন্তা রাজ্যবাসীকে খুরে খুরে খাচ্ছে। ‌সীমান্তের মানুষের জীবন যাপন কতটা নিরাপদ? সেটা নিয়ে চলছে আলোচনা পর্যালোচনা গ্রামে শহরে।

সম্মানিত মুখ্যমন্ত্রী, দুর্ভাগ্যজনক এই বিষয়টি সম্পর্কে আপনি খুব ওয়াকিবহাল। ঘটনার পর একেবারেই নড়েচড়ে বসেছেন আপনি। গত সাতাশে মে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আপনার কড়া নির্দেশে পুরো ঘটনা সরজমিনে তদন্ত করতে জেলাশাসক ও পুলিশ কর্তাদের নিয়ে দিসৈ ভ্যালিতে উপস্থিত হয়েছেন ডিজিপি জিপি সিংহ। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আপনার এই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গোটা রাজ্যবাসী আনন্দিত। উৎফুল্লিত ।

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী! সীমান্ত নিয়ে আমাদের রাজ্যের সাথে পার্শ্ববর্তী মিজোরাম ও নাগাল্যাণ্ডের বিবাদ চলছে অনেক আগে থেকেই। কাছাড়,হাইলাকান্দি এবং করিমগঞ্জের মিজোরাম সীমান্তে মিজোরাম সরকারের প্রসন্ন মদতে মিজো দখলদার বাহিনী দখল কার্যসূচি চালিয়ে আসছে। বরাকের আমজনতা এর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন বারবার। কিন্তু কিছুতেই মিজো আগ্রাসীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস পাচ্ছে না। তারা আগ্রাসন বন্ধ করছে না। বরং দিনদিন তারা দখল কর্মসূচি চালিয়েই যাচ্ছে । গত কয়েক মাস আগে কাছাড়ের লায়লাপুরের কুলিছড়ায় মিজোরা আগ্রাসন চালিয়েছিল। আগ্রাসন প্রতিরোধে মিজো বাহিনীর হাতে প্রাণ দিয়েছেন একজন নিরীহ মানুষ। নিজেদের জমি দখলমুক্ত করতে রক্ত দিয়েছেন অনেকেই। এ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল বরাক। স্থানে স্থানে আন্দোলন হয়েছিল। বিধানসভায় সোচ্চার হয়েছিলেন বিরোধী দলীয় বিধায়করা। সদনে সরকার পক্ষকে জবাব দিতে হয়েছিল। অবশ্য সোনওয়াল সরকার নড়েচড়ে বসেছিল। কিন্তু আখেরে ফলাফল শূন্যই থেকে গেল। মিজো আগ্রাসন বন্ধ হল না। আসামের বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দ সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে মিজো বাহিনীর প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়েছিলেন। কাছাড়ের জেলাশাসকও প্রতিরোধের শিকার হয়েছিলেন। যেটা সত্যিই রাজ্যের লজ্জা। জাতির লজ্জা। যখন কুলিছড়া নিয়ে উত্তাল বরাক, ঠিক সেই সময় দক্ষিণ হাইলাকান্দির কচুরতলে মিজো বাহিনী জবরদখল চালিয়েই যাচ্ছিল। এর বিরুদ্ধে বিস্তর আন্দোলন হয়েছে। আসাম সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সীমান্তের আমজনতা। স্থানীয় গণমানুষ মিজো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। মিজোরা একটি স্কুল গৃহ উড়িয়ে দিয়েছে। তাছাড়া প্রায় এক বছর ধরে একটি মসজিদ কব্জা করে বসে আছে মিজো পুলিশ। এছাড়া মিজো আগ্রাসীদের হাতে প্রতিনিয়ত সীমান্ত এলাকার নিরপরাধ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন।

দেশ জুড়ে চলছে করোনার বিধ্বংসী থাবা। চারদিকে চলছে মৃত্যু মিছিল। চলছে রাজ্যে রাজ্যে লকডাউন। আসামে চলছে মিনি লকডাউন। এরই ফাঁকে মিজো বাহিনী হাইলাকান্দি কচুরতলে চালাচ্ছে আগ্রাসন।আসামের জমিতে কয়েকটি পাকা সেতু তৈরি করে ফেলছে। এসব দেখে মনে হচ্ছে এটা বোধহয় কোন মগের মুল্লুক । নাগা ও মিজো আগ্রাসনের এ ধারাবাহিকতা কবে বন্ধ হবে? নাগা মিজো নির্যাতনের জাঁতাকলে আসামবাসী আর কত পিষ্ট হবে? আর কত নিরীহ মানুষ প্রাণ দেবে? আর কত রক্ত ঝরবে? কত সহস্র বিঘা জমি বেদখল হবে? কবে থামবে এ আগ্রাসন? এসব প্রশ্ন আজ জনতার মুখে মুখে।

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সাহেব! আপনি নেডার আহ্বায়ক। উত্তর পূর্বে রয়েছে আপনার বিরাট দাপট। সৌভাগ্যক্রমে নাগাল্যান্ডে আপনার এন ডি এ সরকার। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসুন। নাগালাণ্ড ও মিজোরামের সরকারের সাথে আলোচনার টেবিলে বসুন । সমাধানের স্থায়ী পথ খুঁজে বের করুন। আর যারা বিধায়ক কুর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। তাদের শনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। এক্ষেত্রে আসাম বাসী আপনার পাশে আছেন। এবং থাকবেন।

মুফতি রশিদ আহমদ কাসিমী,
উপাধ্যক্ষ দারুল উলুম বদরপুর

Rashid Qasimi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top