Home » যেসব কারণে এতেকাফ বিনষ্ট হয়।

যেসব কারণে এতেকাফ বিনষ্ট হয়।

আজ সূর্যাস্তের পূর্বে মসজিদে মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসলমান মাসনুন এতেকাফ পালনে ব্রতী হয়েছেন। তাঁরা ঈদের চাঁদ পরিদৃষ্ট হওয়া পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করবেন। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং নৈকট্য লাভের সাধনায় নিজেদেরকে উৎসর্গ করবেন। রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ পালন করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ আলাল কিফায়া। অর্থাৎ গ্রামবাসীর পক্ষে কোন একজন এতেকাফ পালন করলে সবার দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু কেউ যদি এতেকাফ পালন না করেন, তবে গোটা গ্রামবাসী গোনাহগার হন। মাসনুন এতেকাফ পালন অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটা এবাদত। এটা যেমন ফজিলতপূর্ণ তেমনি কিছুটা জটিলও। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম হলে এতেকাফ বিনষ্ট হয়ে যায়। পুনরায় সেটা পালন করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে। অথচ আমাদের মুওতাকিফগণ এক্ষেত্রে থাকেন একেবারেই উদাসীন। মাসাইল সম্পর্কে অনেকের থাকে না অবগতি। ফলে বেমালুম এতেকাফ বিনষ্ট হয়ে যায়। এবং অজান্তে আরেকটা ওয়াজিবের বোঝা কাঁধে উঠে।

আমাদের গ্রাম বরাকে ষাট সত্তরের কোঠায় পা দেওয়া মুরুব্বীদেরকে এ দায়িত্ব পালনে ব্রতী হতে দেখা যায়। বয়োবৃদ্ধগণ এতেকাফ পালনে ততটা সচেতন থাকতে পারবে না। ফলে হিতে বিপরীত হয় । সাওয়াব অর্জনের আশায় বুক বাঁধা এতেকাফকারী ওয়াজিবের বোঝা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। আর সিংহ ভাগের অজান্তেই এটা থেকে যায়। কাযা হয় না আদায়। আর এতে তারা গোনাহগার হন। তাই আসুন জেনে নিই কোন কোন অবস্থায় এতেকাফ ভঙ্গ হয়। আর ভঙ্গ হলে সেটার কাযা কিভাবে এবং কবে আদায় করতে হয়।

১.এতেকাফরত অবস্থায় সর্বক্ষণ মসজিদে অবস্থান করা আবশ্যক। সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে মসজিদ থেকে বের হওয়ার অনুমতি আছে। যেমন, প্রশ্রাব পায়খানা,ফরজ গোসল,ওয়াজিব ওজু এবং নাপাকি দূরীকরণ । এসব প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোন কারণে মসজিদের বাইরে অবস্থান করলে ওয়াজিব এতেকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে।

২. এতেকাফরত অবস্থায় হায়েজ এবং নেফাজ হলে এতেকাফ ভঙ্গ হয়ে যায়।

৩.কেউ যদি পাঞ্জেগানা মসজিদে এতেকাফ পালন করেন। তাহলে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য জামে মসজিদে যেতে পারবেন। এতে এতেকাফ বিনষ্ট হবে না।
৩. কাপড় ধৌত করার জন্য মসজিদ থেকে বের হলে এতেকাফ বিনষ্ট হয়ে যাবে।

৪. ওজু থাকা অবস্থায় আবার ওজু করার জন্য মসজিদ থেকে বের হলে এতেকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে।
৫. গরমের কারণে গোসল করার জন্য মসজিদ থেকে বের হলে এতেকাফ বিনষ্ট হবে।

৬. জরুরীকালীন অবস্থা যেযন মসজিদে আগুন লেগে যাওয়া, মসজিদ ভেঙে পড়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে মসজিদ থেকে বের হলে এতেকাফ ভঙ্গ হবে না। এমতাবস্থায় অন্য কোন মসজিদে এতেকাফ পূর্ণ করতে হবে।

আমাদের গ্রাম বরাকের সিংহভাগ এতেকাফকারী বিড়ি ও সিগারেট পান কিংবা অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনে আসক্ত থাকেন। তারা এতেকাফরত অবস্থায় মসজিদ থেকে বের হন। আর দিব্যি বিড়ি সিগারেটে সুখটান দেন। কেউ অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে । এতে তাদের অজান্তেই এতেকাফ ভঙ্গ হয়ে যায়। তাই এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া দরকার। যদি কেউ এমনটা আসক্ত থাকেন, যে থাকে পান বা সেবন করতেই হবে। তাহলে তাকে মাসনুন এতেকাফ থেকে শত যোজন দূরে থাকতে হবে। কেননা এতে এতেকাফ বিনষ্ট হবে। কাযা আদায় করা আবশ্যক হবে। একজনের নেশার টানে গোটা গ্রামবাসী গোনাহগার হওয়া থেকে বেঁচে থাকা দরকার ।

এতেকাফ ভঙ্গ হলে করণীয় কী।
যদি কেউ মাসনুন এতেকাফব্রত পালনের নিয়ত করেন। তারপর কোন কারণে এতেকাফ ভঙ্গ হয় তবে তারজন্য একদিনের( একদিন একরাতের) কাযা এতেকাফ পালন করা ওয়াজিব। সেটা রমজানে কিংবা রমজানের পরে আদায় করলে
চলবে। উল্লেখ্য রমজানের পর এতেকাফ আদায় করলে সঙ্গে সিয়াম পালন করতে হবে। কেননা সিয়াম ব্যতিত ওয়াজিব এতেকাফ আদায় হয় না।

amarkolom

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top