আবু সাঈদ হত্যাসহ মোট পাঁচটি নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে গঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ সোমবার ঘোষণা হতে যাচ্ছে। ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার বিশদ অভিযোগনামা, ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা—সব মিলিয়ে বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘিরে দেশজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাষ্ট্রপক্ষ ইতোমধ্যে আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেছে—নারী হওয়ার কারণে কোনো ছাড় প্রাপ্য নয়। রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষিত হতে যাচ্ছে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ সকাল ১১টায় বসে রায় ঘোষণা করবে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটি হবে প্রথম রায়। রাষ্ট্রপক্ষ ইতোমধ্যে হাসিনাসহ সকল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে যুক্তি পেশ করেছে। রায় ঘোষণার সময় রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে বড় পর্দায় কার্যক্রম সরাসরি প্রদর্শন করা হবে।
মামলার অপর দুই আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে ভারতে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ইতোমধ্যে রাজসাক্ষী হয়েছেন এবং নিজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
এই রায়ের মাধ্যমে গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্ভাব্য শাস্তি কী হতে পারে—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও গভীর আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপির ভাগ্য নির্ধারণও জানা যাবে আজই।
রায়কে কেন্দ্র করে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা সদস্য এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। ঢাকা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে বিজিবিও দায়িত্ব পালন করছে। সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগরোধে কঠোর নজরদারি চলছে। এদিকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ জুলাই পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরাও প্রস্তুত অবস্থানে আছে।
৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগনামা
এই মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগনামা দাখিল করা হয়েছে, তাতে রয়েছে—
২,০১৮ পৃষ্ঠার তথ্যসূত্র,
৪,০০৫ পৃষ্ঠার জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণ,
২,৭২৪ পৃষ্ঠায় শহীদদের তালিকা ও বিবরণ।
সব মিলিয়ে মামলাটি হয়েছে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা।





