দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবার স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সর্বোচ্চ ভরিপ্রতি ৭ হাজার ৬৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম আবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ভরিপ্রতি ২ লাখ ৬২ হাজার টাকায়।
শনিবার সকাল ১০টায় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘোষিত নতুন দাম ওই সময় থেকেই কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, এর আগের দিন শুক্রবার ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে ঠিক একই পরিমাণ দাম আবার বাড়ানো হলো। একই সঙ্গে শুক্রবার রুপার দামও ভরিপ্রতি ১৭৫ টাকা কমানো হয়েছিল।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি বিক্রি হবে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা।
স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ভরিপ্রতি ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী। স্বর্ণ ও রুপার দামের তথ্য সরবরাহকারী ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস ডট অর্গের তথ্যমতে, বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৬৬ ডলার, যেখানে আগের দিন দাম ছিল ৪ হাজার ৮৫০ ডলার। এর আগে ৩০ জানুয়ারি স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা বেড়ে ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে পৌঁছায়।
গত মাসের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস এক ধাপে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা দাম বাড়ায়। এতে করে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম। একই সঙ্গে একবারে এত বেশি পরিমাণে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি।




