ঢাকা-১৩ আসনের নির্বাচনী ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক। ভোট গণনায় গুরুতর অনিয়ম, ফলাফলের শিটে ওভাররাইটিং এবং ব্যালট পেপারের নকশাজনিত বিভ্রান্তির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ভোটের ফল প্রভাবিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সারা দিন দায়িত্ব পালন করা পোলিং এজেন্টদের ভোট গণনার সময় আইনবহির্ভূতভাবে সরিয়ে অন্য এজেন্ট ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে তাদের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দিয়ে অথবা স্বাক্ষর ছাড়াই একতরফাভাবে ফল ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকাশিত ফলাফলের একাধিক শিটে নির্দিষ্ট একটি প্রার্থীর ভোটের ঘরে বারবার ওভাররাইটিং ও সংখ্যা কাটাছেঁড়া দেখা গেছে। একই জায়গায় ধারাবাহিকভাবে সংখ্যা পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি প্রার্থীর ভোট বাড়ানোর সুস্পষ্ট অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
ব্যালট পেপারের নকশা নিয়েও তীব্র আপত্তি জানান তিনি। নয়জন প্রার্থী থাকায় ব্যালটে দুটি কলাম রাখা হয় একটিতে পাঁচজন ও অন্যটিতে চারজন। এতে প্রথম কলামের শেষ সারির বিপরীতে দ্বিতীয় কলামের ঘর ফাঁকা থাকায় অসংখ্য ভোটার বিভ্রান্ত হয়ে ভুল স্থানে সিল দেন। এর ফলে প্রতিটি কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট বাতিল হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাদের হিসাব অনুযায়ী বাতিল ভোটের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৮১টি, যেখানে দুই প্রার্থীর ব্যবধান মাত্র ২ হাজার ৩২০ ভোট।
মাওলানা মামুনুল হকের দাবি, বাতিল হওয়া ভোটের ৮০ শতাংশের বেশি তার প্রতীকে পড়েছিল এ বিষয়ে তাদের কাছে প্রমাণও রয়েছে। একই ধরনের অনিয়মের উদাহরণ টেনে তিনি ঢাকা-৮ আসনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ভোটারের অভিপ্রায় স্পষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ঘরেই ভোট গণনার নজির রয়েছে।
তিনি বলেন, “ওভাররাইটিং ও বাতিল ভোট,এই দুটো একত্রে হিসাব করলে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধান আমার পক্ষে আসার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে।”
ফল ঘোষণার রাতেই নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।




