ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলে ফেরত পাঠানো হয়েছে আরও তিন জিম্মির মরদেহ। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও স্থবির পরিস্থিতির পর এই ফেরত কার্যক্রমকে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রবিবার (২ নভেম্বর) রাতে হামাস মৃতদেহগুলো আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) হাতে হস্তান্তর করে, পরে সেগুলো ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
গত ১০ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও দখলদার ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়, যা ১৩ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হামাস প্রথমে জীবিত জিম্মিদের মুক্তি দিতে শুরু করে এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে মৃত জিম্মিদের দেহ ফেরত দিচ্ছে। হামাসের এই পদক্ষেপকে অনেকেই মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করলেও ইসরায়েল বলছে, মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়, “রেডক্রসের মাধ্যমে ইসরায়েল তিন মৃত জিম্মির কফিন গ্রহণ করেছে। গাজায় অবস্থানরত প্রতিরক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের কর্মকর্তাদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন শনাক্তকরণের জন্য এগুলো ফরেনসিক শনাক্তকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।”
অন্যদিকে হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড জানায়, দক্ষিণ গাজার একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ থেকে রবিবার সকালে এই তিন জিম্মির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে হামাস মোট ২০ জন জিম্মির মরদেহ ইসরায়েলকে ফেরত দিয়েছে। ধারণা করা হয়, যুদ্ধবিরতির শুরুর সময় হামাসের কাছে ২৮ জন জিম্মির মৃতদেহ ছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৭টি দেহ ফেরত দেওয়া হয়েছে—যার মধ্যে ১৫ জন ইসরায়েলি, একজন থাই ও একজন নেপালি নাগরিক।
ইসরায়েলের অভিযোগ, হামাস রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করছে। তবে হামাসের দাবি, গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে অনেক দেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে, ফলে উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে পড়েছে এবং সময় লাগছে।
তথ্যসূত্র: দ্য নিউ আরব








