সর্বশেষ
৯ কোটি ২০ লাখে কলকাতা নাইট রাইডার্সে মোস্তাফিজ
সংকট কাটেনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদির
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন শরীফ ওসমান হাদি
হাদিকে গুলিবর্ষণ: সম্রাটের যোগসূত্র পেয়েছে গোয়েন্দারা
নলছিটিতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির বাড়িতে চুরি
মাথায় বুলেট নিয়ে আইসিইউতে হাদির জীবন–মৃত্যুর লড়াই
ইতিহাসে এই প্রথম একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট
‘অপমানিত বোধ করছেন’ রাষ্ট্রপতি, নির্বাচনের পর পদত্যাগ করতে চান
নির্বাচনে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টার পদত্যাগ
ইমরান খান ও পিটিআইকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব পাঞ্জাব অ্যাসেম্বলিতে পাস
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ২৪ ভারতীয়র সংশ্লিষ্টতা ও ইউনিফর্মের কাপড় সংগ্রহের যোগসূত্র কী
রাজধানীর ৩০০ ফিটে মধ্যরাতে সড়ক দুর্ঘটনা
শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের শুনানি আজ
আমদানির প্রভাবে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীলতার পথে
আন্তর্জাতিক প্রটোকল মেনেই জুলাই শহীদদের লাশ তোলা হবে: সিআইডি প্রধান

ভারত থেকে আমদানির খবর ছড়াতেই পেঁয়াজের দামে পতন

আমার কলম অনলাইন

রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজের দাম এক সপ্তাহে কেজিতে ৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেলেও আমদানির গুঞ্জনে তা আবার কমতে শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, গত দুই দিনে সরবরাহ কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে।

কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির খবর বাজারে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দাম নিম্নমুখী। তিনি বলেন, “আগে আড়তে দাম বেড়ে গিয়েছিল, এখন সরবরাহ বাড়ায় আমরা কম দামে বিক্রি করছি।”

সোমবার বিকালে কারওয়ানবাজারে ভালো মানের পাবনার পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। একই অবস্থা শান্তিনগর, নয়াবাজার, হাতিরপুল ও পলাশী বাজারেও। ব্যবসায়ীদের ধারণা, সরবরাহ আরও বাড়লে দাম আরও কিছুটা কমবে।

রোববার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পেঁয়াজের দাম নিয়ে ব্রিফিংয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “দেশে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, সংকট নয় বরং সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বাজার স্থিতিশীল না হলে আমদানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাম্পার ফলন হয়েছে, দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। মৌসুমের শেষ, ভারী বৃষ্টি আর শুকানোর সময় ওজন কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে দাম বেড়েছে।”

তবে সিন্ডিকেট বা মজুতদারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “আমার কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। সীমান্তের ওপারেও বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য পেঁয়াজ মজুত করা হচ্ছে বলে খবর পেয়েছি।”

অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. মো. জামাল উদ্দীন বলেন, “দেশে এখনো তিন লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ কৃষকের হাতে রয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আমদানির অনুমতি আদায়ের জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। দুই-তিন দিনের মধ্যেই দাম আরও কমে যাবে।”

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) বলছে, কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ১১০ টাকায় পৌঁছানোয় দ্রুত আমদানির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে ড. জামাল বলেন, “ট্যারিফ কমিশন হয়তো আমদানিকারকদের প্ররোচনায় এমন সুপারিশ করেছে, কারণ বাস্তবে দেশে কোনো ঘাটতি নেই।”

ভোক্তা অধিকার সংস্থা ক্যাবের সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইনও একই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “দেশে ভালো উৎপাদন সত্ত্বেও বাজারে কারসাজি করে কৃত্রিম সংকট দেখানো হচ্ছে। এখন আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।”

শ্যামবাজারের এক আড়তদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ভারতে দাম কমলেই কিছু ব্যবসায়ী দেশে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ায়। পরে সেই অজুহাতে ভারত থেকে কম দামে আমদানি করে দেশে বেশি দামে বিক্রি করে লাভবান হয়।”

বর্তমানে ভারতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা বলে জানান তিনি। “এই দামেই পেঁয়াজ আনতে চায় সিন্ডিকেট চক্র,” বলেন ওই আড়তদার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে বছরে ৩৫ লাখ টনের চাহিদার বিপরীতে গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ টন। ফলে সংস্থাটি মনে করছে, এখনই বিদেশ থেকে আমদানি করার প্রয়োজন নেই।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ