ছয় বছরে ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১,৩৮৪ জনের, সবচেয়ে বেশি নিহত পথচারী
রাজধানী ঢাকায় ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৩৮৪ জন নিহত এবং ২ হাজার ৪৮৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৩৪ জন পুরুষ, ২১৯ জন নারী এবং ১৩১ জন শিশু রয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন পথচারী। মোট নিহতের ৫৯২ জন পথচারী, ৫৩৬ জন মোটরসাইকেল আরোহী এবং ২৫৬ জন বাস, রিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের চালক-যাত্রী।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ সময়ে ৫১৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া সকালে ২৫৮ জন, দুপুরে ১৯৫ জন, বিকেলে ১৭৪ জন, ভোরে ১৪২ জন এবং সন্ধ্যায় ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাকের হার সবচেয়ে বেশি, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩.২৫ শতাংশ। এরপর মোটরসাইকেল ২৬ শতাংশ, বাস ২১.৭৫ শতাংশ, অটোরিকশা, সিএনজি ও লেগুনা ১২.৭৩ শতাংশ এবং মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও জিপ ৬.২৫ শতাংশ।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাত ও সকাল সময়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। রাজধানীতে বাইপাস সড়কের অভাবে রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত ভারী মালবাহী যানবাহনের দ্রুতগতির চলাচল এবং দীর্ঘস্থায়ী যানজটের কারণে চালকদের অস্থিরতা দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এছাড়া অপর্যাপ্ত সড়ক, একই পথে বিভিন্ন গতির যানবাহনের চলাচল, ফুটপাত দখল, প্রয়োজনীয় স্থানে ফুটওভার ব্রিজের অভাব বা অকার্যকারিতা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা দুর্ঘটনা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর সড়ক বর্তমানে রাজধানীর সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক বাসসেবা চালু এবং বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ, সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টদের মত।




