বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পরিস্থিতির চেয়েও নাজুক বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। তার দাবি, দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ শতাংশে—যা যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রগুলোর চেয়ে তিনগুণ বেশি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বসুন্ধরায় আইসিসিবিতে চার দিনব্যাপী ‘সিরামিক এক্সপো’ উদ্বোধনের সময় তিনি এ বক্তব্য দেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আগের সরকার দেশের অর্থনীতিকে একেবারে বিপর্যস্ত অবস্থায় রেখে গেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। এর প্রভাব হিসেবে ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরুদ্ধারের পথে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, সিরামিক এক্সপোর আয়োজনই এর বাস্তব প্রমাণ। সিরামিক শিল্পের উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
এক্সপোকে কেন্দ্র করে সিরামিক শিল্পের বৈশ্বিক পরিসরে পরিচিতি বাড়ার পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা মনে করছেন। আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে যে সব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা তুলে ধরার মাধ্যমে সমাধান পাওয়া যাবে এবং দেশে চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির পরিসরও বিস্তৃত হবে বলে তারা আশাবাদী।
বিসিএমইএ›র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মামুনুর রশীদ বলেন, দেশের মোট সিরামিক চাহিদার ৮০ শতাংশই স্থানীয় কারখানাগুলো উৎপাদন করছে এবং পাশাপাশি রপ্তানিও হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যাগুলোর সমাধান এবং নীতি সহায়তা পেলে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব।
বিসিএমইএ›র প্রেসিডেন্ট মইনুল বলেন, তৈরি পোশাক খাতের পর বিকল্প রপ্তানি সক্ষমতা হিসেবে সিরামিকের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। পোশাক শিল্পের মতো সিরামিকেও নীতি সহায়তা দেওয়া হলে এ খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থানের বড় একটি শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। এক সময় ৮০ শতাংশ রপ্তানি নির্ভর সিরামিক শিল্প এখন ৮০ শতাংশ স্থানীয় উৎপাদনমুখী হয়েছে, এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। বর্তমানে সিরামিক রপ্তানি থেকে বছরে ৫০০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আসে।
তিনি আরও জানান, দেশে এখন সিরামিক টেবিলওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যার উৎপাদনকারী ৭০টিরও বেশি কারখানা রয়েছে। স্থানীয় বাজারে এ খাতের বার্ষিক বিক্রি প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। গত এক দশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ১৫০ শতাংশ। বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে পণ্য রপ্তানি করে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আয় হচ্ছে। বিনিয়োগ ও রপ্তানির প্রবৃদ্ধি বাড়ছে এবং চীন-ভারতসহ বড় উৎপাদনকারী দেশগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে এ শিল্পে, যেখানে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।





