সর্বশেষ
নেত্রকোনায় ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই জনের মর্মান্তিক মৃত্যু
তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে মাহমুদুর রহমানের সতর্কবার্তা
পরিবারের আয় হারাম হলে স্ত্রী ও সন্তানাদির জন্য করণীয় কী?
ভোরে কম্পনে কেঁপে উঠল আসাম, ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প
মাদুরো দম্পতিকে আটক করে নিউইয়র্কে নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী
পাঁচ লাখ হিন্দু সাধু নিয়ে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে হামলার হুমকি শুভেন্দুর
ভারতে মুসলিম-খ্রিস্টান-দলিতদের ওপর সহিংসতার মাত্রা উদ্বেগজনকহারে বেড়েছে
শহীদ ওসমান হাদির স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান তারেক রহমানের
হুমকির প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক নেতাদের দেওয়া হচ্ছে গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার ঘরে পেট্রল ঢেলে আগুন, শিশু নিহত
হাদির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক আজ
শহীদ ওসমান হাদীর মরদেহ বিমান বন্দরে পৌঁছেছে
শহীদ হাদির মৃত্যুতে উত্তাল শাহবাগ, রাজপথে নেমেছে ছাত্র-জনতা
১৫ বছর দিল্লিকে কথা বলতে শুনিনি: তৌহিদ হোসেন
৯ কোটি ২০ লাখে কলকাতা নাইট রাইডার্সে মোস্তাফিজ

পরিবারের আয় হারাম হলে স্ত্রী ও সন্তানাদির জন্য করণীয় কী?

আমার কলম অনলাইন

হালাল উপার্জন ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। মানব জীবনে বৈধ উপায়ে জীবকা উপার্জন করা অপরিহার্য। এবং তা সাওয়াবের কাজ।

কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা হালাল বস্তু গ্রহণের ব্যাপারে একাধিক বার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তাহলো- আমি যে রিয্ক তোমাদের দিয়েছি তা থেকে পবিত্রগুলো আহার করো।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৭২)- পবিত্র বস্তু থেকে আহার কর এবং সৎ কর্মশীল হও। তোমরা যা করছ আমি তা ‎জানি।’ (সুরা মুমিনুন : আয়াত ৫১)

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও হালাল জীবিকা উপার্জন ও তা গ্রহণ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন-

‘হালাল জীবিকার সন্ধান করা অন্যান্য ফরজের সঙ্গে আরেকটি ফরজ।’ (মিশকাত)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত বৈধ পন্থায় জীবিকা ও সম্পদ উপার্জন করা। হারাম তথা অবৈধ পন্থা ত্যাগ করা। আর সুদের সম্পদ, ঘুষের সম্পত্তি, অন্যের অনুমতি ছাড়া তার সম্পত্তি (যেমন চুরি, ডাকাতি, দখল, বিশ্বাসর ঘাতকতা ইত্যাদি) হারাম সম্পদের অন্তর্ভুক্ত।

ব্যাংকের চাকরি থেকে উপার্জিত টাকাও হারামের অন্তর্ভুক্ত। যেহুতু ব্যাংকের বেশিরভাগ লেনদেনই সুদের সাথে জড়িত, হারাম পণ্য বা খাদ্য সামগ্রী থেকে নেওয়া পণ্যগুলিও হারাম।

যারা হারাম উপার্জন করে তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিধান হলো যে, হারাম উপার্জনকারীদের কে হারাম উপার্জন থেকে বিরত রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

সর্বাত্মক চেষ্টার পরও যদি হারাম না ছেড়ে দেয়, তাহলে যদি তাদের স্ত্রীদের পক্ষে বৈধ পদ্ধতিতে নিজেদের খরচ বহন করা সম্ভব হয় সেক্ষেত্রে তার স্বামীর সম্পদ থেকে খাওয়া তার জন্য জায়েয হবে না। আর যদি বৈধ পদ্ধতিতে তার পক্ষে নিজের খরচ বহন করা সম্ভব না হয়, তাহলে তখন স্বামীর সম্পদ থেকে জরুরত পরিমাণ খাওয়া ও ব্যবহার করা তার জন্য জায়েয হবে।

একই বিধান প্রযোজ্য হবে পরিবারের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে,মেয়ে এবং ছোট শিশুদের ক্ষেত্রেও( অর্থাৎ তারা পরিবারের হারাম উপার্জন থেকে খাওয়া-দাওয়া সহ নিজেদের প্রয়োজনে তা ব্যবহার করতে পারবে)

আর বাড়ির প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অর্থাৎ বালেগ পুরুষ হলে নিজে উপার্জন করে জীবনধারন করবে। নারী হলে বিয়ের আগ পর্যন্ত পরিবার থেকে যতটুকু হলে বেচে থাকা যায় ততটুকু গ্রহণ করবে।

কেননা পিতার উপর নিজ বালেগা মেয়েকেও লালন পালন ওয়াজিব। নাবালক ছেলে সন্তান এবং সকল বয়সের মেয়ে সন্তানের লালনপালনের দায়িত্ব নিকটাত্মীয় মাহরাম পুরুষের উপর। পিতা, ভাই,চাচা ইত্যাদি মাহরাম পুরুষরা ধারাবাহিকভাবে মেয়ে সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এটা তাদের উপর ওয়াজিব। তারা এ দায়িত্ব পালন না করলে গোনাহগার হবে।

ونفقة البنت بالغة والابن بالغا زمنا أو أعمى على الأب خاصة به يفتى

বালেগ মেয়ে এবং বালেগ পঙ্গু বা অন্ধ ছেলের ভরণপোষণের দায়িত্ব পিতার উপর। এটার উপরই ফাতাওয়া।(আল-উকুদুদ-দুররিয়া-১/৮২)

যদি কোনো ব্যক্তির মোট সম্পদ বা অধিকাংশ উপার্জন হারাম হয় এবং যিনি তার বাসায় মেহমান হবেন তিনি তার হারাম আয়ের কথা জানেন, তাহলে তার জন্য এমন ব্যক্তির ভোজ গ্রহণ করা জায়েয নয়, যদি না সে হালাল আয়ের আলাদা হিসাব রাখে এবং হালাল টাকা থেকে ভোজের অনুষ্ঠান করে এবং মেহমানদেরও জানা উচিত যে এই ভোজের আয়োজন হালাল টাকা দিয়ে করা হয়েছে। অন্যথায় মেহমানদের জন্য তা আহার করা জায়েয হবে না।

তদ্রূপ হালাল আয় থেকেই দাওয়াতের ব্যবস্থা করেছে বলে নিশ্চিত হলে তখনো দাওয়াত গ্রহণ করা যাবে। তবে হারাম অর্থ দ্বারা দাওয়াতের ব্যবস্থা করেছে জানা গেলে কোনো ক্ষেত্রেই দাওয়াত গ্রহণ করা জায়েজ হবে না। এমন অবৈধ উপার্জনকারী দাওয়াত দিলে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়াই উত্তম। তবে সমাজের কেউ কেউ সরাসরি দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাঁকে আঘাত করে কথা বলেন, এটা ঠিক নয়। বরং তাঁকে অবৈধ উপার্জন থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য সুন্দর ও যুক্তিপূর্ণ ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করা উচিত।

সূত্র : সুরা : নাহল, আয়াত : ১২৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ৫/৩৪৩; আলমুহিতুল বোরহানি : ৮/৭৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ১৮/১৭৫

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বৈধ উপায়ে উপার্জন করার তাওফিক দান করুন। হারাম থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

الموسوعة الفقهية الكويتية (23 / 248):

“المال الحرام كالمأخوذ غصباً أو سرقةً أو رشوةً أو رباً أو نحو ذلك ليس مملوكاً لمن هو بيده”.

الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (6 / 191):

“وفي جامع الجوامع: اشترى الزوج طعاماً أو كسوةً من مال خبيث جاز للمرأة أكله ولبسها، والإثم على الزوج”.

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ