সর্বশেষ
ঢাকা-১৩ নির্বাচনে ফল বাতিলের দাবি, ভোট গণনায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ
ভোটে বিজয়ের পর দেবিদ্বারবাসীর মন জয় করার অঙ্গীকার হাসনাত আবদুল্লাহর
স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা
উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন, নারী নিহত
নিয়ম না মেনে ভোট কেন্দ্র অবস্থান করায় সেনাবাহিনীর বে’ধ’ড় পি’টুনি, যুবদল নেতাসহ আ’ট’ক ২
ক্ষমতায় এলে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের
পাকিস্তানে জুমার নামাজে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৩১
প্রবাসীদের পাঠানো ৪ লাখ ২২ হাজার পোস্টাল ব্যালট দেশে
জামায়াতের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন তারেক রহমান
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়াল বাজুস
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশের বাজেট ও সরঞ্জাম সংকটে বাড়ছে চাপ
এনসিটি ইজারা বন্ধের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দর
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজ্জায় ধারাবাহিক হামলা, নিহতের সংখ্যা ৩৭ ছাড়াল
আপিলেও স্বস্তি পেলেন না বিএনপি প্রার্থী, কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচন অনিশ্চিত
গাজ্জায় আগ্রাসনে ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি হত্যার স্বীকারোক্তি ইসরাইলের

উত্তর প্রদেশের বুলডোজার কৌশল — মুসলিম জনবসতি ও ব্যবসা লক্ষ্যবস্তু, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছাড়াই ধ্বংসযজ্ঞের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের বেশ কিছু রাজ্য — বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও আসামে — বুলডোজার এখন মুসলমান বিরুদ্ধে নির্যাতনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। মুসলিমদের বাসা-বাড়ি ও দোকান-পাটকে বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে; অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধ্বংসযজ্ঞ করা হয় যথাযথ নোটিশ, আদালতের আদেশ বা নিয়মবিধি না মেনে।

এই নীতি প্রথম চালু করে ছিলেন উত্তর প্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ২০১৭ সালে সমাজবাদী পার্টির শাসন চলে যাওয়ার পর তিনি বুলডোজারকে “ভালো প্রশাসনের” প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে অনেক ক্ষেত্রে বুলডোজার বিজেপির একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, বলে সমালোচকরা দাবি করেন।

একজন ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিক সুমাইয়া ফাতেমা তুর্কি টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে বলেছেন, “শুধু মুসলমান হওয়ায় আমাদের লক্ষ্য করা হচ্ছে।” উদাহরণস্বরূপ, উত্তরপ্রদেশের কানপুরে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে ঈদে মিলাদুন্নবীর শোভাযাত্রায় ‘I love Muhammad’ লেখা একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে বিরোধ উত্থাপিত হলে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য এফআইআর দায়ের করা হয়; এরপর গ্রেপ্তার ও বাড়ি ভাঙার অভিযোগ ওঠে, এবং শতাধিক মুসলমানকে ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টির মামলা করা হয়।

অর্থাৎ ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে পাঁচটি রাজ্যে কর্তৃপক্ষ ১২৮টি অবকাঠামো ধ্বংসের কথা জানা গেছে; ভাঙা স্থাপনাগুলো মূলত মুসলিমদের বলে অভিযোগ করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধ্বংসকাণ্ড পূর্বনোটিশ, আদালতী নির্দেশ বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া না মেনে করা হয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞকে বেআইনি ও বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করেছে। আইনজীবী কেকে রাই অভিযোগ করেন, বিজেপির উদ্দেশ্য হলো মুসলমানদের সমাজে নিচু অবস্থানে নামিয়ে আনা — তাদের সম্পদ, ব্যবসা ও শিক্ষাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং নাগরিক হিসেবে পূর্ণ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। তিনি বলেন, এসব ধ্বংসযজ্ঞ বিজেপির বৃহত্তর কৌশলের অংশ।

সমালোচকদের মতে, বিজেপি ও তাদের ঐডিয়োলজিক্যাল মদদ সংস্থা আরএসএস-এর লক্ষ্য হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা; ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন আইন ও নীতির মাধ্যমে মুসলিমদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী, বস্তি উচ্ছেদ, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ ও নামাজস্থল সীমাবদ্ধ করার মতো পদক্ষেপগুলোর উল্লেখ করা হয়। এক রিপোর্টে (হাউজিং অ্যান্ড ল্যান্ড রাইটস নেটওয়ার্ক) বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সারাদেশে লাখের উপর বাড়ি ভেঙে ফেলেছে; বাস্তুচ্যুত হয়েছে লক্ষাধিক মানুষ, যাদের মধ্যে অনেকেই মুসলিম-ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে।

অন্যদিকে, সাংবাদিক, সমালোচক ও কর্মীরা ঘনঘন সন্ত্রাসবিরোধী বা রাষ্ট্রদ্রোহ সংক্রান্ত ধারায় গ্রেপ্তার হয়ে থাকেন। সরকারি বক্তব্য প্রচার করে ও ঘরবাড়ি ভাঙার পথে জনমত গঠনের জন্য কিছু মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এসব ধ্বংসকাণ্ডকে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছে এবং নির্বিচারতা কমাতে নির্দেশ দিয়েছে — পুলিশ বা প্রশাসন কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে অনিয়ম করে বুলডোজার নিয়ে বাড়ি ভাঙতে পারবে না; যে কোনো উচ্ছেদ হলে তা উচিত নিয়মানুযায়ী এবং আদালতের অনুমোদনসহ হতে হবে। তবুও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আইনবহির্ভূত কার্যক্রম চলছেই, বলেই অভিযোগ করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ